প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাস জলাশয় দখল করে ঘর নির্মাণ

ডেস্ক রিপোর্ট : আমতলীর তারিকাটা গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কালাম প্যাদা ও ইউসুবের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০টি ঘর তুলে কোটি টাকা মূল্যের ৪৫ শতাংশ জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আমতলী উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে পূর্ব তারিকাটা গ্রামের মেনাজ প্যাদার ছেলে কালাম প্যাদা ও তার স্ত্রী বকুল বেগম ভুল তথ্য দিয়ে ভূমিহীন সেজে আরপাঙ্গাশিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ৪৯নং তারিকাটা মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ১১২০ ও ১০৮২নং দাগের ১ একর জমি বন্দোবস্ত নেন। এই বন্দোবস্ত নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা বিতর্ক ওঠে। বিতর্কের পর স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন হাওলাদার এ বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর বন্দোবস্ত বাতিলের দাবি করে বরগুনার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, কালাম প্যাদার নামে পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। সে তথ্য গোপন করে তার এবং তার স্ত্রী বকুল বেগমের নামে ১ একর খাস জমি বন্দোবস্ত নেন। এ ছাড়া জাকির হোসেন হাওলাদার এই জমির ওপর সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে বরগুনার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ বিচারক মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত জমির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কালাম প্যাদা এবং ইউসুবের নেতৃত্বে তড়িঘড়ি করে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি শতাধিক লোক সমাগম ঘটিয়ে দখল চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাজমুল হাওলাদার বলেন, কালাম প্যাদাকে সহযোগিতা করছেন আমতলী ভূমি অফিসের সাবেক চেইনম্যান ইউসুব। তিনি বর্তমানে বরিশালের মুলাদী উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত। তিনি আমতলীতে নামে-বেনামে প্রায় ৫৮টি খাস জমির কার্ড করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এই দুর্নীতির বিচার এবং ভুয়া খাস জমির কার্ড বাতিলের দাবি করেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আব্দুল মতিন জানান, কালাম প্যাদা ভূমিহীন না হয়েও তার তথ্য গোপন করে খাস জমি দখল করে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘর তুলেছেন। এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন তারিকাটা গ্রামের সরকারি চেইনম্যান ইউসুব।

রোববার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শতাধিক লোক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি দখল করে তাতে শত শত গাছের খুঁটি, বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরি করে তাতে টিনের ছাউনির কাজ করছেন। পাশেই শত শত লোক অকারণে ঘোরাঘুরি করছে। এরা কারা জিজ্ঞেস করলেও কেউ মুখ খুলছে না।

চেইনম্যান ইউসুব তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযুক্ত কালাম প্যাদা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার এবং আমার স্ত্রীর নামে বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে ঘর তুলছি। আপনি একজন ভূমিহীন মানুষ কীভাবে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঘর তুলেছেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি সমিতির মাধ্যমে এ ঘর তুলছি।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, কালাম প্যাদার বিরুদ্ধে ভূমিহীন না হয়েও খাস জমি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণ হলে খাস জমির বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে। এ ছাড়া এর ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাও কালাম প্যাদা মানছেন না। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, খাস জমি দখল করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : সমকাল