প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অদৃশ্য কারণে বোর্ডসভা স্থগিত : নির্বাচনের আগে বিতর্কিত হতে চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বণিক বার্তা : বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত বোর্ডসভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল সব পরিচালকের। কিন্তু সকালের দিকেই অনেকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে স্থগিত হয়ে যায় গতকালের নির্ধারিত বোর্ডসভা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডসভা আকস্মিক স্থগিতে ঝুলে গেছে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন। কারণ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় থাকলেও বোর্ডসভার মূল এজেন্ডা ছিল নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ব্যাংক অনুমোদন দিয়ে বিতর্কিত হতে চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংকও।

দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পর্ষদ সভা ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। কারণ এ সভাতেই নতুন তিনটি ব্যাংক অনুমোদনের কথা ছিল। ব্যতিক্রম কিছু না ঘটলে জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদের সভা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র।

সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণা করায় রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিয়ে বিতর্কিত হতে চাননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক। এ কারণেই বোর্ডসভায় আগ্রহী হননি তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিচালকদের কয়েকজন পর্ষদের সভায় উপস্থিত থাকতে না পারার কথা জানিয়ে দেন। এ কারণে পর্ষদের সভা স্থগিত করা হয়েছে। পর্ষদের পরবর্তী সভা কবে হবে, সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংক তিনটি হলো— পিপলস ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক। ইসির আপত্তির পাশাপাশি প্রস্তাবিত ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও ঘাটতি রয়েছে। পর্ষদ সভা স্থগিতের পেছনে এটিও কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর অনুমোদনের জন্য পর্ষদের এ সভাটি আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কাগজপত্র তৈরি না হওয়ায় পর্ষদের সভা আর হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন— জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. রুশিদান ইসলাম রহমান, ইসলাম আফতাব কামরুল অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের একেএম আফতাব উল ইসলাম এফসিএ এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ। এর মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া গতকাল বিকাল ৫টায় আমেরিকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

নতুন ব্যাংক অনুমোদনের বিষয়ে আপত্তি আছে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা এমনিতেই বেশি। গত ১০ বছরে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১২টি ব্যাংক। এর মধ্যে ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিস্থিতিই নাজুক। পরিচালকদের সম্পদের পরিমাণ, আয়ের উৎসসহ অন্যান্য বিষয়ে যথাযথ অনুসন্ধান না করেই ২০১৩ সালে নয়টি ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতকেই বিপদে ফেলেছে। এজন্য নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার নীতিতে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তাদের কর-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২২ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি পাঠানো হয়। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু ফরাহ মো. নাছের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই ও ২৮ অক্টোবর-২০১৮ তারিখে আপনাদের পাঠানো পত্রে দেখা যায়, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের আটজন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারের আয়কর-সংক্রান্ত মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকটি চলতি বছরের ৪ নভেম্বর এক পত্রের মাধ্যমে ওই আটজন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে আসলাম সেরনিয়াবাত ছাড়া অন্য সাত উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার বাদ দিয়ে নতুন চারজন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ব্যাংকটির ওই নতুন চারজন ও বিদ্যমান একজনসহ মোট পাঁচজন উদ্যোক্তার কর-সংক্রান্ত তথ্যাদি যাচাই করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির উদ্যোক্তাদের দাখিলকৃত পাঁচ সেট আয়কর বিবরণীর ফটোকপি আপনাদের বরাবর প্রেরণ করা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পত্রে পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের দাখিলকৃত আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণের সঠিকতাসহ পাঁচটি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ চিঠির উত্তর দিতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় নেবে এনবিআর। সে হিসেবে পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সম্পদের তথ্য জানতেই চলতি বছর শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের আবেদনকারী এমএ কাশেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব কাগজপত্র চেয়েছে, সেগুলো এরই মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। অন্য কোনো বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের’ জন্য আবেদন করেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। যদিও শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামেই অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল।

পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের জন্য আবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এ অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকটির আবেদন করা হয়েছে।

সিটিজেন ব্যাংকের আবেদনটি এসেছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পরিবার থেকে। আনিসুল হকের মা জাহানারা হককে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনপত্রে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত