প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপেক্ষা শেষ আজ বিএনপির ঘোষণা

বাংলাদেশ প্রতিদিন : ভোট নিয়ে অধীর অপেক্ষায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। সঙ্গে রয়েছেন কর্মী-সমর্থকরাও। সবার নজর এখন গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। আজ সকাল ১০টায় গুলশান কার্যালয় থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চিঠি দেওয়া হতে পারে। অপেক্ষাকৃত দূরের জেলাগুলোর আসনের প্রার্থীদের নাম আগে ঘোষণা দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে আজ দুই শতাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বাকিগুলো আগামীকাল ঘোষণা হতে পারে।

গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দূরের জেলাগুলোর কয়েকজন প্রার্থীকে অনানুষ্ঠানিকভাবে গতকাল রাত থেকেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত করতে দিনভর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতেও আসন বণ্টন নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির সঙ্গে পৃথকভাবে জোট-ফ্রন্টের বৈঠক হয়। এ প্রার্থী তালিকা আগামীকাল ঘোষণা হতে পারে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ৫০টি আসন ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ দরকষাকষি করলে আরও ৫-১০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, ‘বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে আজ থেকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হবে।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জোট ও ফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা করে বাকিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এবার মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মতামত গুরুত্ব পেয়েছে। অপেক্ষাকৃত যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয় নেতারাই দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।’

সূত্রমতে, বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালে দলীয় প্রার্থী তালিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কারাগারে যাওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের করা একাধিক জরিপকেও সামনে রাখা হয়েছে। তবে বেশ কিছু আসনে একাধিক বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। ঢাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির পুরনো অনেক প্রার্থীই এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না রাজধানীতে। ঢাকাতে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি আসন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জোটের নেতাদের দেওয়া হতে পারে। দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরাও ছিটকে পড়ছেন রাজধানীতে। বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সিনিয়র নেতা জানান, দুই জোটকে জায়গা করে দিতেই রাজধানীতে বিএনপির কিছু আসন ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এসব আসনে জোটেরও হেভিওয়েট নেতারা ভোটযুদ্ধে লড়বেন।

এদিকে বেশ কিছু আসনে মূল প্রার্থীর পাশাপাশি  বিকল্প প্রার্থীকেও চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। মামলা, ঋণখেলাপিসহ নানা কারণে নির্বাচনে কোনো প্রার্থী অংশ নিতে না পারলে সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীকেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবে বিএনপি। দুই জোটের শরিকদের দেওয়া আসনগুলোতেও বিকল্প প্রার্থী রাখা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত বাছাইয়ের আগে বিকল্প প্রার্থীকে তুলে নেওয়া হবে। এদিকে গতকাল বিকালের পর থেকেই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। রাতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ে আসেন। সেই সঙ্গে জোট ও ফ্রন্টের নেতাদের কর্মী-সমর্থকরাও গুলশান কার্যালয়ে জড়ো হন। কার্যালয়ের ৮৬ নম্বর রোডের দুই পাশে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকালে গুলশান কার্যালয়ে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর বিএনপির সিনিয়র নেতারাও সন্ধ্যার পর সেখানে আসেন। জানা যায়, মির্জা ফখরুল দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নে সই করেন। এর আগে দিনভর নয়াপল্টন কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ করেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের অবস্থানের কথা জানতে চান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত