প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চক চক করিলেই সোনা হয় না, রাজনীতিতে যা হয়

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার : ক্ষমতাসীনদের ‘স্বাধীনতার চেতনা’ বর্তমানে একটি ট্রেড মার্ক যার ‘গুড উইল’ বিক্রি করা সহজতর হয়েছে। জামায়াত-শিবির বিরোধী শ্লোগানে সরকার আকাশ বাতাস মুখরিত করছে, তাদের জেলে পুড়ছে, নির্বাচন করার নিবন্ধন দিচ্ছে না, অন্যদিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে না। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে অনেক নাটকীয়তার আবির্ভাব ঘটে। তবে আলোচনা পর্যালোচনায় জনগণ জাতীয়নীতি নির্ধারনের কিছু শ্লোগানের সাথে পরিচিতি লাভ করে যা পণ্য সামগ্রী বিক্রির মতো জনগণকে আকৃষ্ট করার মতো নিত্যনতুন ব্যতিক্রম ধর্মী শ্লোগান মাত্র। রাজনীতিও একটি পণ্য সামগ্রীর মতো, যখন যে ভাবে জনগণের নিকট বাজারজাত করা যায়। রাজনীতি এখন আর প্রকৃত রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে নেই। শ্লোগান দেয়া, পুলিশের পিটুনি খাওয়া, জেলখাটা, রাজপথে গুলি খাওয়াই রাজনীতিবিদদের পাওনা। আর যখন নির্বাচন আসে তখন দলীয় মার্কা প্রাপ্তি যুদ্ধে নেমে যায় দল ছুট ছাড়াও টাকাওয়ালা, ব্যাংক লুটেরা, ভূমিদস্যু, ব্রুকেট, পুলিশ/সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তারা যারা কোনো না কোনোভাবে জনগণকে শাসন/শোষণ করে আসছে। অন্যদিকে ত্যাগ-তিতিক্ষা বা নির্মল মন নিয়ে দেশ সেবার ব্রত নিয়ে যারা নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে আসছে, তারা নিজেকে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য ‘নির্বাচন’ নামক একটি মহড়ার সময় যখনই আসে তখনই অর্ভিবাব হয় লুটেরাদের, যারা দুই হাতে উজার করে দেয় অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ। সকল রাজনৈতিক দলেই থাকে তাদের আনাগোনা, তারা ব্যবসা করে সরকারি দলের পার্টনারশিপে এবং তলে তলে খতির করে বিরোধীদের সাথে, অর্থাৎ একজাগায় বসতে পারলেই হলো (!) আসলে  দুঃখজনক এই যে, নীতিবান (!) রাজনৈতিক দলগুলোও এদের লুফে নেয়। রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তনের কথা যারা বেশি বলেন তারাই নির্বাচন পূর্ব সময়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কুলষিত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করেন। ভবিষ্যত লেখায় এ সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হবে, তবে এখন নয়, ৩০ ডিসেম্বরের পর, যার জন্য জাতি এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ও বিপক্ষে কথা বলে ক্ষমতাসীনরা জাতিকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। ভাগটা এমনই যে, যারা সকারের পক্ষে তারাই মুক্তিযুদ্ধের বা চেতনার পক্ষের শক্তি, বাকি (বিরোধীরা) সকলেই (সরকারীদের মতে) জামায়াত-শিবিরে ছত্রছায়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। সরকার বিএনপিসহ রাজনৈতিকভাবে যাকেই জবাই করুক না কেন, তাদের স্বাধীনতাবিরোধী বলে চালিয়ে দেয়, যার ফলে সরকারবিরোধী সংখ্যা দিনে দিনে এখন বৃদ্ধির পথে।

‘ছদ্মাবরণ’ বেশি দিন স্থায়ী হয় না। আওয়ামী লীগের কাছের লোকেরাই এখন ধানের শীষের মার্কার জন্য লাইন ধরছেন। ফলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপিকে চিহ্নিত করার জন্য সরকার যতোই চেষ্টা করেছে, তা ফলদায়ক হয়নি এ কারণে যে, সরকার অসত্য ঘটনা সাজিয়ে নিজের স্বার্থ উর্দ্ধারের জন্য লড়ছে, যা জাতির স্বার্থে নয়।  লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ