প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বয়সসীমাবৃদ্ধি : বিএনপি পারলে আওয়ামী লীগ পারবে না কেন?

দেশের বেকারত্ব, উচ্চশিক্ষার হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট, সার্বিক গড় আয়ুবৃদ্ধি, শিক্ষাবিরতি ও যুবনীতিতে যুবকদের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা দুবছর বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি দীর্ঘদিনের দাবি। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই দাবি বারবার তোলা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে তারা দেশব্যাপী অসহিংস আন্দোলন, বিভিন্ন পত্রিকা, টিভি, মুখগ্রন্থসহ নানা মাধ্যমে তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরছে। বিশ্বের দেড়শ’রও বেশি দেশ চাকরিতে প্রবেশের ন্যূনতম বয়সসীমা ৩৫ বছর অনুসরণ করছে। সবদিক বিবেচনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অনেক সংসদসদস্য ও যুবলীগ চেয়ারম্যানসহ অনেকেই উচ্চশিক্ষিত যুবকদের এই দাবির ব্যাপারে বিভিন্ন সময় যুক্তি দেখিয়ে কথা বলেছেন এবং নানাভাবে সমর্থন দিয়েছেন।

তাছাড়া পরপর দুইবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছরে উন্নীত করার সুপারিশ করেছ। অথচ এখনো ফলাফল শূন্য। তবে যে কারণে দাবিটি এখনো ফাইলবন্দি হয়ে আছে, তা মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছ। তিনি বলেছেন, ‘কিছু সিনিয়র কর্মকর্তার কারণে বয়সসীমা বাড়াতে পারিনি। তবে চাকরি থেকে অবসরের বয়স বাড়ানো দরকার’। তার এই বক্তব্য সমাজে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। মানলাম, বয়সসীমা বৃদ্ধি করলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাবে।

যেখানে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষাশেষে বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে, সেখানে কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে যুবকদের মেধাকে বয়সের ফ্রেমে বন্দি রেখে বেকারত্বরোধের চিন্তা কতোটা যুক্তিযুক্ত? আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, পড়ালেখা শেষ হতে না হতেই ৭০-৮০% নিম্নবিত্ত পরিবার উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে। অথচ সদ্যশিক্ষাজীবন শেষ করা একজন চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থীর কাছ থেকে সরকারি-বেসরকারি নিয়োগদাতা সংস্থাগুলো বয়সসীমা-৩০ বছরের সাথে জুড়ে দেয় ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত। অধিকাংশক্ষেত্রেই বেসরকারি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সরকারি নীতিই অনুসরণ করে। তাই নানা কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই ২৬-২৮ বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করা নিম্নবিত্ত লাখ লাখ যুবককে পরিবারের দিকে তাকিয়ে ছোটখাটো চাকরিতে প্রবেশ করতে হয়। একাডেমিক সিলেবাস আর চাকরির নিয়োগপরীক্ষার সিলেবাসে মিল না থাকা, চাকরির চাপ ও সময়ের স্বল্পতার কারণে তারা নিজেদের যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না।

ততোদিনে টাকার জোরে মেধাহীন, অযোগ্যরা বসে যায় যোগ্যদের চেয়ারে। জাতীয় পত্রিকার অনলাইন পোর্টালে খবর আসছে, শিক্ষিত যুবসমাজের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ইশতেহারে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছাড়া চাকরিতে ঢোকার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা রাখবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের উদাসীনতার ফলেই ঐক্যফ্রন্ট এই সুযোগ গ্রহণ করেছে। ফলে শিক্ষিত যুবকদের একাংশ সরকারবিমুখ হতে যাচ্ছে। কারণ তাদের এই দাবির জন্য উচ্চশিক্ষিত যুবকরা রাজপথে বছরের পর বছর আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্যবার পুলিশী নির্যাতন, জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছে। সরকারের কাছে দীর্ঘ ৬-৭ বছরের আকুতি, অহিংস আন্দোলনের ফলাফল যদি শূন্য হয়, তাহলে তাদের দাবি যারা মেনে নেবেন, স্বাভাবিকভাবেই ৩৫ প্রত্যাশীরা তাদের পক্ষেই থাকবেন।

কারণ চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত বিএনপি ৩০ বছরে উন্নীত করার কৌশল অবলম্বন করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি পারলে আওয়ামী লীগ পারবে না কেন? তাদের ভয় কিসের? এ যাবৎ কেউ কি বয়সসীমা বৃদ্ধির বিপক্ষে আন্দোলনে নেমেছে? ঐক্যফ্রন্টের মতো এখন যদি আ. লীগও দাবিটি নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করে, তা হলে ৩৫প্রত্যাশীরা কাকে বিশ্বাস করবে? নিঃসন্দেহে ঐক্যফ্রন্টকে। কারণ বিগত ১০বছর আ. লীগ সরকার বহুমুখী উন্নয়ন করার ঝুঁকি নিলেও ৩৫-এর বেলায় নীরব থেকেছে। তবু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিম্নবিত্ত পরিবারের লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত যুবককে ধরে রাখতে ও তাদের মেধাপ্রমাণের সুযোগ দিতে নির্বাচনের আগেই সব ধরনের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫-এর ঘোষণা ও বাস্তবায়ন জরুরি।

যদি সরকার এই জনপ্রিয় দাবি বাস্তবায়ন করে, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অবশ্যই লাভবান হবে। তা না হলে অবস্থা হিতে বিপরীত হতে পারে। এ-অবস্থায়, ৩৫প্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত যুবকের মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে সব বাধা উপেক্ষা করে নির্বাচনের আগেই এ-বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটিমাত্র ইতিবাচক বার্তা হতে পারে ত্রিশোর্ধ্ব যুবকদের জন্য কাক্সিক্ষত বার্তা এবং আগামী নির্বাচনে আ. লীগের বিজয়ের একটি বড় হাতিয়ার।

লেখক : প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত