প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক জেলার কর্মকর্তাদের অন্য জেলায় বদলি করা জরুরি’

সাইদ রিপন ও সাব্বির আহমেদ : ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘আমরা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের শাস্তি চাই না, বদলি চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে এক জেলার কর্মকর্তাদের অন্য জেলায় বদলি করা জরুরি। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে এখনও সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। ইসির নির্দেশনা এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে প্রতিফলিত হচ্ছে না।’

রবিবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

অলি আহমদ বলেন, ‘এখনও সারা দেশে গায়েবি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এসব মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না থাকায়, আমরা আশঙ্কা করছি, নির্বাচনের আগে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মী, এজেন্টদের এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তাই ইসির কাছে আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব মামলা স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছি।’

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্বপালন করা অনেক কর্মকর্তাই সরকারি দলের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য রাতের আধারে ব্যালট পেপারে ভোট কাস্ট করে রাখেন। চাকরি রক্ষার জন্য অনেক সময় তারা এ রকম অনৈতিক কাজে আত্মসমর্পণ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড এড়াতে আগে থেকেই ইসির ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সরকার একটি দূরভিসন্ধি ও নীলনকশার নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিনিয়তই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরে গ্রেফতার করছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, মিথ্যা মামলা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নির্বাচন কমিশনকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে চললে নির্বাচন বানচাল হতে পারে।

ইসির নির্দেশনা সত্ত্বেও সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। কমিশনকে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তারা আরও দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার এএসপির স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি। সস্প্রতি সন্তানসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি ছবি তুলেছেন। এমন অবস্থায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না।

নির্বাচনকালে সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন ইসির নিয়ন্ত্রণে থাকা বাঞ্চনীয় বলে মনে করে ২০ দলীয় জোট। বেসরকারি গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইসির তরফ থেকে একটি গাইডলাইন দেয়া প্রয়োজন।

নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের গ্রেফতারের ক্ষমতা দিয়ে পুলিশের মতো একটি সশস্ত্র বাহিনীকেও দায়িত্ব দেয়া দরকার।

১৫ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা প্রয়োজন।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়ম মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ