Skip to main content

চিঠি দিও প্রতিদিন.....

প্রভাষ আমিন: ডিজিটাল যুগে প্রবেশের পর চিঠি হারিয়ে গেছে। এখন এসএমএস, ই-মেইল, মেসেঞ্জার, ইনবক্স, চ্যাটিং, ফোন, ইমো, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ- যোগাযোগের হাজারটা উপায়। কিন্তু হাতে লেখা চিঠি, সেই চিঠিতে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসার ছোঁয়ায় হৃদয়ে যে কাঁপন, অনুভূতিতে যে শিহরণ; চিঠির ভাজে লুকিয়ে থাকা শুকিয়ে যাওয়া গোলাপের সৌরভের যে আমেজ- তা কি আর মিলবে কখনো? একটা চিঠি পাঠিয়ে কত অপেক্ষা বা প্রিয়ার চিঠি পাওয়ার যে ব্যাকুলতা; তা কি আর কখনো ফিরে আসবে? তারও আগে কবুতরের পায়ে চিঠি বেধে পাঠিয়ে দেয়া হতো, 'যারে যা চিঠি লেইখা দিলাম, সোনা বন্ধুর নামে...'। কখনো কখনো কবুতরও মিলতো না। তখন বিরহি কণ্ঠে হাহাকার, 'নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম; বন্ধুর কাছে মনের খবর ক্যামনে পৌছাইতাম...। কখনো মেঘের কাছে মনের বার্তা পৌছে দিতেন কবিরা। আহা, কোথায় হারিয়ে গেল সেই সোনালী দিনগুলো। ডিজিটাল বার্তায় বুঝি চিঠির সেই ছোঁয়া নেই। এই চিঠিহীনতার সময়ে হঠাৎ আরেক 'চিঠি' যেন তোলপাড় তুলে দিলো সারাদেশে। এ চিঠি মনোনয়নের চিঠি। রোববার আওয়ামী লীগ ২৩০ আসনে মনোনয়নের জন্য প্রত্যাশীদের হাতে চিঠি তুলে দিয়েছে। সেই চিঠি যারা পেয়েছেন, তাদের উল্লাস আমাকে নস্টালজিক করে দিয়েছে। আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে এমপি হতে চাওয়া এই মানুষগুলোর কাছে প্রথম প্রেমের চিঠি বেশি থ্রিলিং ছিল নাকি মনোনয়নের চিঠি? আমি জানি বিষয়টা আপেক্ষিক। একটার সাথে আরেকটা মেলানো কঠিন। তবু চিঠি শব্দটাই আমাকে ওলটপাল্ট করে দিয়েছে। আমরা যদি আবার ফিরে যেতে পারতাম সেই চিঠির যুগে। যদি আবার চিঠি আসতো, হোক সেটা প্রেমের বা মনোনয়নের। আবার যদি মন খুলে গাইতে পারতাম, 'চিঠি দিও প্রতিদিন...।

অন্যান্য সংবাদ