প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইবনে নাফিসের সফলতা

এসএম আরিফুল কাদের : বিশ্বসেরা যে কয়েকজন মুসলিম বিজ্ঞানী রয়েছেন, তন্মধ্যে ইবনে নাফিস অন্যতম। তিনি ছিলেন তার যুগের কয়েক শতাব্দী এগিয়ে। তার দুঃসাহসী বৈজ্ঞানিক মতামত সেটাই প্রমাণ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে নাফিস যে কারণে স্মরণীয় হয়ে আছেন, তা হলো- রক্ত চলাচল সম্পর্কে তৎকালীন প্রচলিত মতবাদের বলিষ্ঠ প্রতিবাদ এবং এর সম্পর্কে নিজের নতুন মতবাদের প্রকাশ। আরব চিকিৎসাবিজ্ঞান তখন প্যালেসের মতবাদকে স্বর্গীয় বাণীর মতো অভ্রান্ত মনে করত।

তার মতবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস থাকলেও কেউ এগিয়ে আসত না। এভাবে গ্যালেনের জ্ঞানের পর মহাবিজ্ঞানী ইবনে সীনার মতবাদগুলো বিজ্ঞান জগৎ মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। এ সময় ইবনে নাফিস নিজের মত জোরালোভাবে প্রকাশ করেন ইবনে সীনার চিকিৎসা বিশ্বকোষ আল কানুনের অহধঃড়সু অংশের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনে নাফিস লেখেন ‘শারহু তাশবিহি কানুন লি ইবনি সীনা’। এ গ্রন্থেই তিনি রক্ত চলাচল সম্পর্কে দুঃসাহসী মতবাদের বিষয় খ-ন করে নতুন মতবাদ প্রচার করেন। এটি চযুংরড়ষড়মু এর গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবাদ। এতে তিনি হৃৎপি- ও ফুসফুসের ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচল সম্পর্কে গ্যালেন ও ইবনে সীনার মতবাদের উল্লেখপূর্বক তা ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করেন।

ইবনে নাফিসের এ যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু ছয় শতাব্দী ধরে তার এই মতবাদ সম্পর্কে আমাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ আবিষ্কারক হিসেবে সম্মান দেওয়া হয় সতের শতকের বিশিষ্ট ইংলিশ চিকিৎসাবিদ উইলিয়াম হার্ভকে। অথচ হার্ভের জন্মের ৩০০ বছর আগে আরব বিজ্ঞানী ইবনে নাফিস এই থিওরি বিশ্বকে দিয়ে যান। বিংশ শতাব্দীর আগে এ ব্যাপারে কেউ জানতেও পারেনি। মিশরের বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ১৯২৪ সালে তার ডক্টরেট অভিসন্দর্ভে ইবনে নাফিসের ওই আবিষ্কারের কথা তুলে ধরেন। তার সূত্র ধরে গধী গবুবৎযড়ভ এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইবনে নাফিসের লিখিত গ্রন্থের অনুবাদ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে। ইবনে নাফিস কর্তৃক রচিত বাইশটি গ্রন্থের নাম জানা যায়।
তাছাড়াও অন্যান্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে- ১. কিতাবুল মুখতার মিনাল আগজিয়া। ২. রিসালা মানফিইল আদাল ইনসানিয়্যাত।
৩. শারহে ফুলুসি আবকুরাত শারহে তাকদিমাতিল মারিফা লি আবকুরাত ফিততিব। ৪. কিতাবুল মুহাজজিব ফিল কুহল।
৫. তারিখুল ফায়াহা মুখতাসারুল মানাতিক আর রিসালাতুল কামালিয়া ফিস সিরাতিন নাবাবিয়া।

তার রক্ত চলাচল বিষয়ে সূত্রের আবিষ্কার তাকে বিজ্ঞান জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে। ১২৮৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ইবনে নাফিস কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ