Skip to main content

‘তারেকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি’

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু: তারেক রহমান যে সমস্ত মানুষের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেছে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেন, খুনের দায়ে সাজা হয়েছে তারেক জিয়ার, শুধু খুনের সাজা হয়েছে তা নয়, দুর্নীতির জন্যও তার সাজা হয়েছে দুটি মামলায়। দু'টি অপরাধে সে এখন পলাতক সে ব্যক্তি যখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে তখন এর চেয়ে নিরাশাজনক আর কিছু হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন আপনারা দয়া করে দেখুন আপনাদের কি করার আছে? রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘তারেক রহমানের ইন্টারভিউ; নৈতিক ও আইনি অবস্থান’ শীর্ষক ‘আমাদের মতামত’ শিরোনামে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কিংস্টাউন এলাকায় তারেক জিয়া থাকেন অত্যন্ত দামী এলাকায় ওটা। এবং যে বাড়িতে থাকেন এটা ঠিক বাড়ি বলা যাবে না মনে হবে যে রানী এলিজাবেথের কোন আত্মীয়র বাড়ি এটা। পুরোপুরি রাজপ্রাসাদ সেটা। যেখানে কাজের লোক আছে ১৫ জন। রাজকীয় ব্যাপার স্যাপার। কিন্তু তাদের এ আয়ের এর উৎস কি? তাদের তো আর আয়ের পথ নেই। কারণ তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী দুজনেই বেকার। ডঃ কামাল হোসেনের প্রসঙ্গে টেনে এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, এ কামাল সাহেবের অতীত কি? আমার কাছে দুটি বই আছে একটি লিখেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর নাসির উদ্দিন আরেকজন পাকিস্তানের জেনারেল সেখানে লিখেছেন সেময় ২৮ তারিখে কামাল এর অনুরোধে কামাল সাহেব কে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরের দিন ২৯ তারিখে কার্গো বিমানে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এই হল তার অতীত পরিচয়। নাসির উদ্দিন লিখেছেন ২৫ শে মার্চের আগে শ্রীমঙ্গলে একটি সভা ও ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সহ আরেকজন মেজর জেনারেল ছিলেন। এই দুজনই ভিআইপি লাউঞ্জে ছিলেন সেখানে কামাল সাহেবও ছিলেন। যেখানে ২৫ শে মার্চ কিভাবে অপারেশন সার্চলাইট হবে সেই পরিকল্পনার মিটিং হয়েছিল। ফরাসউদ্দিন সাহেব যিনি বঙ্গবন্ধু অতি ঘনিষ্ঠজন ছিলেন উনি বলেছেন কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার ভূমিকায় ছিলেন। শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, তখন তার যে ভূমিকা ছিল সেটা আজ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ উনি সেই দলের সাথে আঁতাত করেছেন যে দলের নেতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার নকশায় ছিলেন বলে আপনারা শুনেছেন। আর জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান শেখ হাসিনার হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালিয়েছেন। সেই দলের সাথে ডঃ কামাল হোসেন আজ আঁতাত করেছে। তাহলে তিনি যে আসলে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন সেটা মোটেও আজ খারাপ উক্তি হবে না। এটা একটা খাঁটি উক্তি। তার পুরো জীবনটাই কিন্তু রহস্যময় জীবন। আজ তিনি খুনিদের সঙ্গে জোট করেছেন। তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আবার তারেক রহমানও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একজন এসএসসি পাস ছেলে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর ড. কামাল হোসেন যিনি অক্সফোর্ডের পিএইচডি করেছেন তাকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক। এই অপমানে আত্মহত্যা করা উচিত ছিল। তিনি আরো বলেন, আজ রাজনীতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলছে তাদের কিছুই করার নেই নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ইসির দায়িত্ব তত বাড়ছে। তাই তাদের কি করার আছে, কি করার নেই, এসব বিষয়ে ইসিকে আরো সজাগ থাকতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার জন্য। নির্বাচন কমিশন মাহমুদ তালুকদার একটি আর্টিকেল লিখে পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছেন।মাহবুব তালুকদার যে কমিশনে থাকবেন সেই কমিশন দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না তাকে অপসারণ করা জাতির স্বার্থে অপরিহার্য। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এর কাছে বিষয়টি রেফার করুন। এখন যদি একাত্তরের অপশক্তি নির্বাচিত হয়। তাহলে ২০০১ সালে যেভাবে তারা যেভাবে নির্যাতন চালিয়েছিল,২০১৮ সালেও তারা মানুষ খুন করবে। কাদের সিদ্দিকী, রেজা কিবরিয়ার মত মানুষরাও সেই ঐক্য গেছে এর চেয়ে বড় পরিতাপের কথা থাকতে পারে না। তবে আমি মনে করি কোন সুস্থ্য বিবেক সম্পন্ন মানুষ ড. কামালদের ফাঁদে পা দিবেননা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি-মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র সদস্য সচিব-ডা. মামুন আল মাহতাব, নর্দান ইউনিভাসিটি’র উপদেষ্ঠা-শেখ মঞ্জুর মোর্শেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান,সাবেক ছাত্র নেতা কবীর চৌধুরী তন্ময় প্রমুখ।

অন্যান্য সংবাদ