Skip to main content

ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের নিম্নহার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি : লয়েড

রাশিদ রিয়াজ : জিডিপি’র তুলনায় বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স ফারাক বিশে^ শীর্ষ পর্যায়ে। বিশে^র শীর্ষ বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম লয়েড’এর গ্লোবাল প্রতিবেদনে বিষয়টি চিহ্নিত করে বলা হয়েছে এধরনের পার্থক্য অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে সর্বশেষ প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ক্রয়ক্ষমতার অভাব ছাড়াও ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে পরিস্কার বোঝাপড়া ও আস্থার সংকটই এর মূল কারণ। ফলে ইন্স্যুরেন্স সেবা নিতে বাংলাদেশে এ এক বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। লয়েড’এর বিবেচনায় বাংলাদেশ সবচেয়ে ইন্স্যুরেন্সবিহিন দেশ। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স পার্থক্য ২.১ শতাংশ। আর্থিক পরিমানের দিক থেকে এর পরিমান সাড়ে ৫’শ কোটি ডলার। যা চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক ও মেক্সিকোর পরেই বাংলাদেশকে ষষ্ঠ স্থানে ফেলে দিয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্সের হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। এ দিকটি অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের একটি অন্যতম দিক হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে বিষয়টি একই সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষতির প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলাদেশে মাথাপিছু ইন্স্যুরেন্সের পরিমান মাত্র ৮ ডলার অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষই ইন্স্যুরেন্সের বাইরে। অন্যদিকে ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে বিষয়টি অর্থনীতির বিকাশেও এ এক অন্যতম বাধা হিসেবে বিরাজ করছে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ওপর আস্থা সংকট ও এর মূল্য ও প্রয়োজন না বোঝার বিষয়টিও এর সাথে যোগ হয়েছে। লয়েডের দৃষ্টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিক থেকে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ শুধু নয়, বছরে জিডিপির শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ লোকসান গুণতে হয়। ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে সমুদ্রর উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আরো বলা হয় ওই সময়ের মাধ্যমে দক্ষিণ পূর্বএশিয়ার উৎপাদিত ফসলের ১১ শতাংশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশ^ব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছে। এদিকে সাধারণ বিমা করপোরেশনের এমডি সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেছেন, দেশে ইন্স্যুরেন্সের হার নি¤œ হওয়ার প্রধান কারণ ক্রয়ক্ষমতা ও সচেতনতার অভাব। যদিও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে কিন্তু সচেতনতা বাড়ছে না। এমনকি সরকারি সম্পদ যেমন রেল ও পরিবহন খাত ইন্স্যুরেন্স সেবার বাইরে। সেই সঙ্গে দক্ষতা ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব ইন্স্যুরেন্স খাতে রয়েছে। ইন্স্যুরেন্স ডেভলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরিটি’র সদস্য গোকুল চাঁদ দাস জানান, মাত্র ৭ বছর ধরে ইন্স্যুরেন্স খাতে সঠিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান গঠন হয়েছে। তবে লয়েড এও বলছে ইন্স্যুরেন্স খাতে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জ্যক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ^ব্যাংকের সাথে এখাত উন্নয়নে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ। এরফলে এ খাতে স্থানীয় নিয়ন্ত্রক ও রাষ্ট্রায়াত্ব বিমা কোম্পানিগুলোর পরিধি সম্প্রসারণ হবে। এর আগে লয়েডের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল বিশে^ ইন্স্যুরেন্স ফারাকের পরিমান এবছর দাঁড়িয়েছে ১৬২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। শুধু বাংলাদেশ নয় ইন্স্যুরেন্সের অভাবে আর্থিক খাতে ঝুঁকি বিশে^র সর্বত্রই। তবে ইন্স্যুরেন্স ফারাকের ভেতর উন্নত দেশগুলোতে এর পরিমান ১৬০ বিলিয়ন ডলার হলেও উন্নয়নশীল দেশে তা মাত্র আড়াই বিলিয়ন ডলার। বিশে^ রিয়েল স্টেট খাত ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিমুক্ত হলেও উৎপাদনশীল খাতের অবস্থা এর বিপরীত। ১৬৮৮ সালে লয়েডের যাত্রা শুরুর পর ৩৩০ বছরের পুরোনো এ বিমা প্রতিষ্ঠানটি বিশে^র ইন্স্যুরেন্স জগতে প্রথম সারির অবস্থানে রয়েছে। ২২০টি দেশে লয়েডের ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রমের পরিধি দাপটের সাথেই বিরাজ করছে।

অন্যান্য সংবাদ