প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতের শুরুতেই খেজুর গাছ কাটছে গাছিরা

জামাল হোসেন খোকন, চুয়াডাঙ্গা: প্রকৃতিতে ঠান্ডা বাতাস অনুভব করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রকৃতি শীতের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে গ্রাম-গঞ্জে। আর শীতের মওসুমকে ঘিরে গ্রাম বাংলায় নানা ঐতিহ্য নিয়ে চলছে নানান প্রস্তুতি। ভোরের কুয়াশা জানালা দিয়ে উকি দিচ্ছে! মৃদ ঠান্ডা যেন শীতর আমেজ নিয়ে এসেছে গ্রাম গঞ্জসহ সবখানে। সকাল-বিকাল রাস্তায় বের হলেই বুঝা যায় শীতের আগমন । শীত শুরুর সাথে সাথে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গাছিরা।

গাছিদের দাবী জ্বালানি খরচের পাশাপাশি গাছ প্রস্তুতকারী শ্রমিক ও গুড় তৈরীর জন্য অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর তাদেরকে লোকসান গুনতে হয়।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলা খেজুর গাছ রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর ও দামুড়হুদা উপজেলায়। চলতি মৌসুমে জেলায় গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে আরো জানা গেছে, খেজুর গাছ এখন দিন দিন বাড়ছে। মাঝে অবশ্য কিছু দিন ইটের ভাটায় গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কমে গিয়েছিলো।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে হয়। খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাছা-ছেলা করতে হয়। পরে ছেলা স্থানে নল বসানো হয়। সেই নল বেয়ে নেমে আসে সুস্বাদু খেজুর রস। কাক ডাকা ভোর থেকে সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে দুপুর পর্যন্ত রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়।

জেলার রঘুনাথপুর গ্রামের গাছি ইব্রাহিম জানান, ৪০ টি গাছ তোলতে বা কাটতে একজনকে ২৫০ টাকা দিতে হয়। আর ৪০ টি গাছ থেকে ৩০ ভাড় রস হয়। আর ৩০ ভাড় রসে এক ভাড় গুড় হয়। এক ভাড় গুড়ের ওজন হয় ১৮/ ১৯ কেজি। একভাড় গুড় গতবার বিক্রি হয়েছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি।

গাছি জানান, প্রতিদিন বিকালে গাছে উপরে উঠে ভাড় বাঁধতে হয়। আর অনেক সকালে রস ভর্তি ভাড় খুলতে হয়। এটা অনেক পরিশ্রম। কিন্তু সেই তুলায় আয় হয়না। গত বছর খেজুর গাছ থেকে যা আয় হয়েছে জ্বালানি খরচ ও মুজুরিতেই শেষ। রীতিমত লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার যদি গুড়ের দাম পাওয়া না যায় তাহলে গাছ কাটা অনেকই ছেড়ে দেবে। অন্য কাজে আয় বেশী হওয়ায় ইতিমধ্যেই গাছ কাটা অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে।

খেজুরের রস প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এতে ১৫-২০% দ্রবীভত শর্করা থাকে। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। খেজুরের গুড়ে প্রোটিন, ফ্যাট ও মিনারেল সবই রয়েছে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা খেজুরের রস এড়িয়ে যাবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ