প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কল্যাণ রাষ্ট্রের সন্ধানে!

ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন, অস্ট্রেলিয়া থেকে: দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে বিরাজমান সংশয় যে বর্তমানে কেবল দূর হয়েছে তাই নয়, বরং প্রতিনিয়ত নানা ঘটনায় জমে উঠেছে এবারের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের সামরিক পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন যে রাজনীতির কতো বড় সর্বনাশ করেছে, তার সর্বশেষ উদাহরণ এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। না এটা আক্ষরিক অর্থে হয়েছে জাতীয় ঐক্যের কোনো প্ল্যাটফর্ম, না হয়েছে নৈতিকতার ভিত্তিতে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য। বরং গভীর উদ্বেগের সাথে আমরা দেখছি, রাজনীতির ডান-বাম-উত্তর-দক্ষিণের সব ষড়যন্ত্রের কুশীলবরা এসে ভীড় করেছে নীতিহীন এই ফ্রন্টে। প্রতিদিনই ঐক্যফ্রন্টের এইসব কুশীলবরা কোন না কোন হাস্যকর ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকটা অনুজসম মেধাবী সাংবাদিক নজরুল কবীরের আগ্রহেই ইউটিউবে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে নাগরিক টেলিভিশনের ‘সবিনয়ে জানতে চাই’ অনুষ্ঠানটি দেখলাম। বারবার দল-মত-পথ পরিবর্তনকারী মাহমুদুর রহমান মান্নাদের জন্য এসব অনুষ্ঠান সবসময় খুব সুখকর হয় না, কারণ লজ্জিত হবার মত অনেক প্রসঙ্গই উত্থাপিত হয়। তারপরও বাকপটু মান্নারা কথার মারপ্যাচে পার পেয়ে যান। আবার বলতে বলতে এমন কথা বলে ফেলেন যে তখন হাসবো না কাঁদবো ঠিক বুঝতে পারি না।

সত্তর ও আশির দশকের আলোচিত-সমালোচিত ছাত্রনেতা, কথার যাদুকর মাহমুদুর রহমান মান্না নিজে যেমন স্বপ্ন দেখতেন, তেমনি অন্যদেরও স্বপ্ন দেখাতে ভালবাসতেন। তবে সেটা যে এখন কেবলি মিষ্টি অতীত, এটা অনুধাবনে সম্ভবত তিনি ব্যর্থ। আজকাল স্বপ্নের নামে তিনি যেসব ফেরী করে বেড়ান, তা এতোটাই অবাস্তব যে তাকে আর স্বপ্ন বলা যায় না। নাগরিক টিভির অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানলাম, একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নাকি তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। অনেকদিন হলো এমন উদ্ভট কথা শুনিনি। তবে এটাই কেবল নয়, ঐক্যফ্রন্টের কতিপয় নেতার কল্যাণে এমন আজগুবি কথা আজকাল প্রায়ই শুনতে হচ্ছে।

এ কথা এখন দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হলো জামায়াত-বিএনপির দুঃশাসনকে আড়াল করার এক ব্যর্থ প্রয়াস। কতিপয় পথভ্রষ্ট এতিম রাজনীতিবিদদের নামহীন-গোত্রহীন সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের আড়ালে জামায়াত-বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের এক অপচেষ্টা। একারণেই প্রকাশ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন হলেও পেছন থেকে এর কলকাঠি নাড়েন বিএনপির লন্ডনে নির্বাসিত দ-িত নেতা তারেক রহমান।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারেক রহমান নতুন কোনো নাম নয়। দশ বছরের বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত থাকলেও দেশবাসী তার কুকীর্তির কথা আজো ভুলে যায়নি। দেশের প্রচলিত সরকারের বিকল্প ‘হাওয়া ভবন’ গড়ে তুলে সকল বড় বড় টেন্ডার থেকে শতকরা দশভাগ কমিশন গ্রহণের কারণে তারেক রহমানের আরেক নাম তখন হয়ে গিয়েছিল ‘মি. টেন পার্সেন্ট’। তারেক রহমানের উপস্থিতিতেই এই হাওয়া ভবন থেকে একুশে আগস্টের নৃশংস গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো। জামায়াত-বিএনপির দুঃশাসনের আমলে এই তারেক রহমানদের কল্যাণে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিলো যে বাংলাদেশ তখন দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। এই তারেক রহমানদের কল্যাণেই সংখ্যালঘু নির্যাতন, সারাদেশব্যাপী জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিস্তার, যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়াসহ সব মিলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে দেশে কায়েম হয়েছিল ভয়াবহ এক দুঃশাসন। দীর্ঘকাল নির্বাসনে থেকেও নিজেকে সামান্যতম সংশোধন করেনি তারেক রহমান। বরং বিদেশে পলায়নরত অবস্থায় একের পর এক বিতর্কিত কথাবার্তা বলে, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে নতুন প্রজন্মসহ সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের বিরক্তিই কুড়িয়েছেন তারেক রহমান। সেই কুখ্যাত তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি কল্যান রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছেন হালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। পুরো ব্যাপারটাই এতটা অবাস্তব ও হাস্যকর যে এ বিষয়ে মন্তব্য করাও অর্থহীন। আমড়া গাছের কাঠ দিয়ে কি উন্নতমানের আসবাব পত্র তৈরি করা যায়?

রাজনীতির একসময়ের এইসব প্রিয় মুখগুলো পচে গলে এমন নষ্ট হয়েছেন যে আজকাল তাদের নাম উচ্চারিত হলেই আশেপাশে দুর্গন্ধ গন্ধ ছড়ায়।

লেখক : কবি ও চিকিৎসক। চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ