Skip to main content

রাজনীতি ও মানুষের জীবন

মাসুদ কামাল : যশোরের বিএনপি নেতা আবু বকর আবু ঢাকায় এসেছিলেন জাতীয় নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন নিতে। ১৯ নভেম্বর, যেদিন তার কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে সাক্ষাৎকারের জন্য বসার কথা, সে সময় তিনি লাশ হয়ে ভাসছিলেন বুড়িগঙ্গা নদীতে। জীবিত থাকাকালে যশোরের রাজনীতিতে জনাব আবু যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, সেটা ঢাকায় বসে আমরা তেমন একটা টের পাইনি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে যেসব কথাবার্তা জাতীয় নেতারা বলছেন, তাতে আমাদের রাজনীতির দেউলিয়াত্বই যেন প্রকাশ হতে শুরু করেছে। আবুর লাশ সনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হলো এটা সরকারি দলের কাজ। তারা পুলিশ দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। বিএনপি যখন বলেছে, তখন সরকারি দলের পক্ষ থেকেও তো কিছু একটা বলতে হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজেই মুখ খুললেন। বললেন, বিএনপির অন্তর্দলীয় কোন্দলে মৃত্যু হয়েছে তার। এই দুটি মন্তব্যই এলো লাশ সনাক্ত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই! সরকারের ওপর দোষ চাপাতে যেয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এমনও দাবি করলেন যে, আবু বকর আবুকে নাকি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ, আবুর ভাতিজা হুমায়ূন কবির একটি পত্রিকাকে বলেন, ১৮ নভেম্বর রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে তার চাচা তাকে ফোন করে বলেন, তিনি রমনা পার্কের কাছাকাছি রিকশায় আছেন। এর ঘণ্টা খানেক পর থেকে সেই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাহলে পুলিশই যে তাকে তুলে নিয়ে গেছে, এই খবর কিভাবে নিশ্চিত করতে পারলেন জনাব রিজভী? আবার বিপরীত দিকে অন্তর্দলীয় কোন্দলেই যে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটাই বা কিভাবে বুঝতে পারলেন সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক? এই যে একটা মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে এটা কি বার্তা দিচ্ছে? আচ্ছা, কোন ব্যক্তি রাজনীতি করলেই কি তার মৃত্যুর কারণ রাজনীতিসংশ্লিষ্ট হতে হবে? নিহত আবু বকরের ভাগ্নে জানিয়েছেন, ১৮ তারিখ রাতেই নাকি ফোন করে তার কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। কয়েকটা বিকাশ নম্বরে নাকি সেই টাকা পাঠানোও হয়েছে। এখন পুরো ঘটনাটি যদি পেশাদার অপহরণকারীদের অপকর্ম হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এই রাজনৈতিক দোষাদোষির কারণে হত্যাকারীকে ধরা কি আরও কঠিন হয়ে যাবে না? এর মধ্যে আবু বকরের লাশ যশোরে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি সব দলের নেতাকর্মীরাই ছিলেন। সেখানে অবশ্য সবাই তার প্রশংসাই করেছেন। পরস্পরকে দোষারোপের কোনো কথা সেখানে হয়েছে বলে জানা যায়নি। এমনকি নিহতের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও নয়। কাছের লোকেরা কোনো অভিযোগ করছেন না, অথচ দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই এ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে! একটা বিষয় জানতে খুব ইচ্ছা করছে। এই হত্যা মামলাটা যখন চালু হবে, তখন দুই দলের এই শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদ্বয় কি নিজ নিজ উচ্চারিত অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ আদালতে পেশ করবেন? লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

অন্যান্য সংবাদ