প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যত চ্যালেঞ্জ

ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া : দেশের সবখানে এখন শুধু নির্বাচন নিয়েই আলোচনা। কোন প্রার্থীর কতটা শক্তি, কোথায় দুর্বলতা, তাদের দলগুলোরই বা অবস্থা কেমন এসব নিয়ে তর্কবিতর্ক তুঙ্গে। রাজনৈতিক দলগুলোও এখন তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। যদিও মাঠে অনেক দল, অনেক জোট। তবে নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য হল, আরো পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট নিশ্চিত করা, অন্যদিকে বিএনপির লক্ষ্য হল, এক দশক পর ক্ষমতায় ফিরে আসা। আওয়ামী লীগের সামনে এখন যেসব চ্যালেঞ্জ, সেগুলো যদি তারা ঠিকমত সামলাতে না পারে তবে ভাগ্য বিএনপির প্রতিই সুপ্রসন্ন হবে। আওয়ামী লীগের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, প্রার্থী বাছাই এবং শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে একটা সমঝোতায় পৌঁছানো। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। বর্তমানে ক্ষমতাসীনও বটে। এই দলের অনেকই মন্ত্রী বা এমপি। তাঁরা চাইবেন নিজ নিজ আসন ধরে রাখতে। পাশাপাশি দলের বহু নেতা-কর্মী এই নির্বাচনে লড়তে দলের টিকেট পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। তাছাড়া এবার হয়তো, জোটের শরিকদের জন্যও এই দলটিকে অন্যবারের চেয়ে বেশি আসন ছাড় দিতে হবে। শরিকদের জন্য আসন ছাড় দেয়ার পর যা বাকি থাকবে, তাই দিয়েই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চাহিদা মেটাতে হবে। তাহলে এবার কারা পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন? ২০১৪ সালের নির্বাচনে যারা পেয়েছিলেন, তারা তাঁরাই? না, তা হতে পারে না। এবারের নির্বাচন ২০১৪ সালের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। যাঁরা মন্ত্রী বা এমপি হয়েছিলেন, তাঁদের সবার রেকর্ড এক রকম নয়। কারো রেকর্ড খুব ভালো, কারও খারাপ। কেউ কেউ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, কেউ আবার নিজের এবং দলের জন্য দুর্নাম কুড়িয়েছেন। যাঁদের রেকর্ড ভালো নয়, তাঁদের মনোনয়ন দেয়া ঠিক হবে না। আর এটাই হবে আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ।

প্রার্থী বাছাইয়ের পর মনোনয়ন প্রদানই হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ। মনোনয়ন বঞ্চিতরা কি দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন এবং দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করবেন? অনেকে মেনে নেবেন এবং দলের জন্য কাজ করবেন- এটা ঠিক। কিন্তু সবাই তা করবেন না। তাঁরা হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন, নয়তো দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করবেন। আর এই বিষয়টাই আওয়ামী লীগের আরও একবার বিজয় লাভের সম্ভাবনার ওপর প্রভাব ফেলবে।

আওয়ামী লীগের জন্য তৃতীয় চ্যালেঞ্জটি হল বিএনপি এবং জামায়াতের নির্বাচনী কৌশল। বিএনপি বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আড়ালে রাখতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ চ্যালেঞ্জটি হল, শিক্ষিত বেকার তরুণদের সমর্থন লাভ। আওয়ামী লীগ কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেছে সত্যি তারপরও অনেকে বেকার রয়ে গেছে। এই বেকারত্ব তারা কিভাবে দূর করবে, সে ব্যাপারে একটা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ