প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩০ ডলার মূল্যের মেমোরি কার্ড দিয়ে হ্যাক করা সম্ভব ইভিএম

শাহানুজ্জামান টিটু : আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করছে। দলগুলোর প্রবল বিরোধিতা ও আপত্তি উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি বিএনপি তাদের এক সমীক্ষায় বলেছে, ১২০টি দেশে ইভিএম ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে। এই মেশিন হ্যাকিং প্রুফ নয়। তাদের মতে মাত্র ৩০ ডলার মূল্যের মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে ইভিএম হ্যাক করা বা ভোটের ফলাফল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রযুক্তি কমিটি ইভিএমের পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে এই মেশিন ব্যবহারের প্রধান তিন সমস্যা চিহ্নিত করেছে। ১. সময় ভিত্তিক কারচুপি, ২. সংখ্যা নির্ভর কারচুপি এবং ৩. চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর কারচুপি। এর বাইরে অস্যৎ উদ্দেশ্যে তিন কারণে ইভিএম ব্যবহার করা যায়। ১. প্রতীক প্রদর্শন এবং আর্বিভাব পরিবর্তন সম্ভব, ২. প্রার্থীদের নাম এবং প্রতীক নিকটবর্তী ভোটিং ব্যাটনসমূহ প্রোগ্রাম করে পরির্বতন করা ও ৩. প্রতীক ক্রমানুসারে বিন্যাস করে ভোটারকে বিভ্রান্ত করা যায়। এরফলে ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধীতার অন্যতম কারণ। সম্প্রতি গুলশানে হোটেল লেকশোর এক সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল তার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের তৈরি ইভিএমের ব্যবহার নানা সমস্যা চিহ্নিত করে এর ব্যবহারের বিরোধীতা করেন। আসন্ন নির্বাচনে ইসি যে ইভিএম ভোটকেন্দ্রে ব্যবহার করবে তার অবিকল আরেকটি ইভিএম মেশিনে চিপের মাধ্যমে কিভাবে নির্বাচনে কারচুপি করা সম্ভব তা তুলে ধরেন। তাবিথ বলেন, ভোট টেম্পারিং করা যায় এবং একজন প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ঘণ্টায় ১৫০টি ভোট দিতে পারবেন।

তবে ভোট কারচুপি মুক্ত করতে ইভিএম-র পরির্বতে বিকল্প ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বিএনপি। এগুলো হচ্ছে ৪৪ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের মোবিলিটি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ, ব্যালট পেপারের জালিয়াতি রোধে ইসির জন্য অত্যাধুনিক প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, রাজনৈতিক দল পোলিং এজেন্ট ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। কর্মকর্তাদের সম্মানী ও ঝুঁকিভাতা দেয়া, আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের জন্য পর্যাপ্ত সম্মানী ও খোরাকি ভাতা, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতায়ন, ভোটারদের ভোট প্রদানে উদ্ধুদ্ধ ও আশ্বস্ত করা, ভোটগ্রহণকালে ছবি ধারণ ও ভিডিও করার জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভিডিও ক্যামেরা সরবরাহ করা। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট এই এই প্রস্তাবনা তুলে ধরে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কমিশন যে ইভিএম ব্যবহার করছে তা সহজেই ম্যানিপুলেট করা যায়। ইভিএম-এর ব্যালট ইউনিটে ডামি প্রতীক ব্যবহার করেও ভোটের ফলাফলকে ম্যানিপুলেট করা যায়। ভোটার ছাড়াও চাইলে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তার নিজের বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে ইভিএমকে ভোটদানের উপযোগী করতে পারেন।

তিনি বলেন, ইভিএম-এর ‘পোল কার্ড’ এ ভোটারদের ভোটদানের সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এ ‘পোল কার্ড’ এর মাধ্যমেই ভোটের ফলাফল গণনা করা হয়। ইভিএম এর সাথে একটি ডুপ্লিকেট ‘পোল কার্ড’ থাকে এবং এ পোল কার্ড’ পরিবর্তন করা যায়। ফলে পূর্ব থেকেই ডুপ্লিকেট পোল কার্ডে ফলাফল সেট করে গণনার সময় তা ব্যবহার করে ভোটের ফলাফল সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়া সম্ভব। সম্পাদনা : মাহবুব হোসেন, ,ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ