Skip to main content

আওয়ামীরাও জানে হারলে তাদের পরিণতি ভয়াবহ, বিএনপিও জানে হারলে কি আছে তাদের ভাগ্যে

যায়নুদ্দিন সানী : সো? ইলেকশান হচ্ছে? হু নোজ? আসলে এবারের পরিস্থিতি বেশ ইউনিক। অনেকটা ২০০৭ সালের মতো, বাট তত্ত্বাবধায়ক অপশানটা নেই। কিছুটা ছিয়াশি, ছিয়ানব্বই কিংবা ৫ জানুয়ারির মতো, তবে বিরোধীদলগুলোর সবগুলোই ইলেকশান করছে। হ্যাঁ, আর সেজন্য কারো গায়েই জাতীয় বেঈমান ট্যাগ লাগছে না। সো, রেজাল্টে ছিয়াশি টাইপ ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং হবে কিনা, হলফ করে যেমন বলা যাচ্ছে না, তেমনি বলা যাচ্ছে না, ২০০৭ সালের মতো হঠাৎ করে রাতারাতি পটপরিবর্তন হবে কিনা। সো দিস টাইম ইট ইজ অ্যা ইউনিক কম্বিনেশান। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং সবাই নির্বাচনে আসছে। কমবেশি সবারই তাই ফিঙ্গার ক্রসড। এদিক ওদিক একটা দুটা করে লাশ পড়ছে। নট অ্যা বিগ ডিল। সেভাবে কাভারেজ পাচ্ছে না। গ্রেফতারও চলছে। পাবলিক শুধু সংখ্যা দেখছে, আর ভুলে যাচ্ছে। বিভিন্ন দলের বক্তব্য অবশ্য আসছে। ওই মুখে যতোটা তড়পানো যায়, ততোটাই। একে অপরকে দোষারোপ করছে, আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কিছু ইডিয়েট সাংবাদিক আবার দেখলাম ইলেকশান কমিশনারের কাছেও জানতে চাইছে, ‘এমন কেন হচ্ছে?’ উনিই বা কি করবেন। মাঝে মাঝে তাই স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন, মিটিং ফিটিং করছেন। আর মূল দুই জোট, একে অপরকে হেয় করার কাজ যথারীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই দলের পক্ষে ফেসবুকেও ঝগড়া চলছে। ফেক নিউজ চালচালি চলছে। স্কাপি বন্ধ হচ্ছে। ঐক্যের ভাঙ্গনের গল্প আসছে। মান্না সাহেবের ত্রিশ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীর লিস্টি লিক হচ্ছে। অ্যান্ড অবশ্যই, উন্নয়নের ফিরিস্তি চলছে। কাদের সাহেব গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন আর ঐক্যফ্রন্টও মাঝে মাঝেই হুমকি ধামকি দিচ্ছে, ‘ইলেকশান করব কি না এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’ এরশাদ সাহেব মাঝে মাঝেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন। কখনও সিএমএইচে কখনও প্রেস কনফারেন্সে। আমাদের সাথে গেসিং গেম খেলছেন, ঝুলিয়ে রেখেছেন, স্পষ্ট করে বলছেন না, কোন জোটে যাবেন। ২০০৭ এ যেহেতু উনার গ্রেফতারের পরেই কাহিনীতে নতুন মোড় আসে, তাই উনার নিখোঁজ কিংবা তড়পানো দেখলে, অনেকেই নতুন প্লটের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন। কাদের সিদ্দিকী কিংবা বিকল্প ধারা একটু বেশি তিড়িং বিড়িং করছেন, তবে তারা জানে তাদের মুরোদ কতোটুকু। আই গেস, তাদের কতোটুকু দেয়া হবে তা ঠিক করাও হয়ে গেছে আর তারা যে সেটা মেনে নেবেন, সেটাও বেশ ভালোরকম নিশ্চিত। সো, বলা যায়, এসব খুচরা দলগুলো কিছু তাফালিং হয়তো করবে, বাট দে হ্যাভ ডিসাইডেড, ‘আকালের দিনে যা পাওয়া যায়, তাই লাভ’। এই হচ্ছে মোটামুটি পরিস্থিতি। আরও কিছু ব্যাপার পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও অনেকটাই খোলাসা হয়ে গেছে। ভারত এবার দৃশ্যমানভাবে নাক গলাবে না। বিকল্পধারা অবশ্য দেখা করতে গিয়েছিলো, কাজ মনে হয় হয়নি। কেন গলাবে না, সেটা অবশ্য স্পষ্ট না। একটা কারণ হতে পারে চীন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে যেভাবে চীন তার প্রভাব বিস্তার করছে, তাতে বাংলাদেশের ব্যাপারেও যে সে আগ্রহ দেখাবে, সেটা বলাই বাহুল্য। চীন কি চায়, সেটাই বরং স্পষ্ট হচ্ছে না। ছোটখাট আরও কিছু ঘটনা ঘটছে। ঐক্যের নেতা কে হবে, এই প্রশ্নটা বাজারে চালু করার চেষ্টা হচ্ছে। নট ব্যাড। ঐক্যের অন্যতম নাজুক একটা জায়গা। তারেক রহমান ফেরত এসে দায়িত্ব বুঝে নেবেন? না কামাল সাহেবকে নেতৃত্বে রাখা হবে, ঐক্য স্পষ্ট করে বলেনি। কেন বলেনি, সেটা অবশ্য স্পষ্ট, ‘এই মুহূর্তে বিভেদ চায় না’। ওদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ঐক্য নতুন রণকৌশল ঠিক করেছে। ‘মহাজোট হারলে বিরোধীদলের নেতা কে হবে?’ এই প্রশ্ন বাজারে চালু করার চেষ্টা হচ্ছে। আওয়ামী নেত্রী বলেছেন, হেরে গেলে তিনি সব দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেবেন। সো, প্রশ্নটা ভ্যালিড। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর কোনো সঠিক উত্তর আওয়ামীদের কাছে নেই। আওয়ামীরা নিজেরা জানে না, হু ইজ নেক্সট ইন দ্য ল্যাডার? কমবেশি এদেশের সব দলেরই একই অবস্থা। বিকল্প ধারা পারিবারিক পার্টি। রব, মেনন কিংবা ইনু সাহেবের পার্টিও নীতি ফিতির কথা বলে, বাট, যে লাউ সেই কদু। ওয়ান ম্যান শো। বামজোটের অবস্থাও তথৈবচ। এরশাদ সাহেব নিয়ে আলোচনা আর না ই করি। মোদ্দা কথা, গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও কোনো দলের পক্ষেই রাজতন্ত্র বের হয়ে আসা সম্ভব না। শুধু তা ই না, রাজতন্ত্র বাতিল করলে দলগুলোও ভাঙতে শুরু করবে। তাহলে কি দাঁড়াল? হাসিনা ছাড়া আওয়ামীলীগ জিরো এবং রহমান পরিবারের সদস্য ছাড়া বিএনপি জিরো। তৃতীয় কোনো শক্তির ইচ্ছেও নেই, মুরোদও নেই, এই সুযোগটা কাজে লাগানোর। মান্না সাহেব কিছুদিন লাফিয়েছিলেন, তবে ফোনালাপ কেসে ফেঁসে যাওয়ার পরে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। বিএনপির লেজ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আখেরে কতোটা কি করতে পারবেন, সময় বলে দেবে। আপাতত সব চোখ আটকে আছে ডিসেম্বরের পনের তারিখের দিকে। সেনাবাহিনী যখন থেকে মাঠে থাকবে। বিএনপি আশায় আছে, যত্রতত্র গ্রেফতার তখন থেমে আসবে। বিএনপির কর্মীরা তখন অনেকটাই নির্ভয়ে কাজ করতে পারবে। আদৌতে কি হবে, এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে, বিএনপির প্রত্যাশা তেমনটাই। মইনুল সাহেবের কি হবে, খালেদা জিয়ার প্যারোল হচ্ছে কি না, এব্যাপারগুলো আপাতত ব্যাকস্টেজে। কে নমিনেশান পেলো, কে কটা সিট জিতবে, শরিক দলগুলো কে কটা সিট পেলো, ওরা কেমন করবে, এসব আলোচনা অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতো এগিয়ে আসছে, কাহিনী ততোটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। শেষ কি হবে, এখনও বোঝা যাচ্ছে না। অ্যাসিড টেস্ট ফর বোথ। ডু ওর ডাই। আওয়ামীরাও জানে হারলে তাদের পরিণতি ভয়াবহ বিএনপিও জানে হারলে কি আছে তাদের ভাগ্যে। দেখা যাক, ভোটে কি হয়, আর তারপরে ঘটে। লেখক : কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, আমাদের নতুন সময়

অন্যান্য সংবাদ