প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা কি কঠিন

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনের মাঠ কতটুকু সমতল হলো, কী কী পদক্ষেপ নিলে আরও সমতল হবে- তা নিয়ে বাকবিতণ্ডা চলছে। সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে নির্বাচন কমিশনে হাজির হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন নানা আশ্বাস দিচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে বলা হচ্ছে। সরকারও বলছে- মন্ত্রীরা রুটিনওয়ার্কের বাইরে কিছু করবেন না, প্রটোকল পাবেন না, এমপিদের অতিরিক্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না ইত্যাদি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এসব কিছু গুরুত্বপূর্ণ। অনুরূপভাবে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কালো টাকার খেলা বন্ধ করা। কিন্তু এ নিয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোট ও প্রতিপক্ষ ঐক্যফ্রন্টের কোনো উচ্চবাচ্য নেই। কারণ, তাদের রাজনীতিতে এখন কোটিপতিদের আধিপত্য। একসময় নির্বাচন ও রাজনীতিতে উকিল, ডাক্তার, শিক্ষক, পেশাদার রাজনীতিকসহ মধ্যবিত্তের প্রাধান্য ছিল- এখন তারা কোণঠাসা। ক্রমে ব্যবসায়ী-কোটিপতিরা জেঁকে বসছেন। তাতেও আপত্তির কিছু ছিল না, যদি তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতেন।

আসলে কোটিপতিদের অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াবহির্ভূত হঠাৎ বনে যাওয়া রাজনীতিক। সে যা-ই হোক, বাম দলগুলো অবশ্য টাকার খেলা বন্ধের কথা বলছে। ইসিসহ অন্যরা যেন তা না শোনার ভান করছে! গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। বাস্তবে প্রার্থীরা এর বহুগুণ বেশি ব্যয় করছেন। পাঁচ-দশ কোটি টাকা নির্বাচনী ব্যয় এখন নস্যি! কোনো কোনো প্রার্থীর আরও বড় অঙ্কের ব্যয় বরাদ্দের কথাও শুনছি। এবার তফসিল ঘোষণার আগেই হবু প্রার্থীদের প্রচারের যে মহড়া দেখা গেছে, তা দেখে আন্দাজ করা যায়, নির্বাচনী ব্যয়ের নতুন রেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ। নির্বাচনই এখন বড় বিনিয়োগ, বড় বাণিজ্য।

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে রঙিন পোস্টার, প্যান্ডেল-তোরণ নির্মাণ, মাইকিং-মহড়ায় যে ব্যয় হয়, তা দৃশ্যমান। দেখা যায় না এমন ব্যয়ের পরিমাণ তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। ভোট কেনার কেচ্ছাকাহিনী পুরনো। তবে সাম্প্রতিক সংযোজন মনোনয়ন খরিদ। খরিদ করা হয় মাস্তানের পেশি ও মাতবরদের মাথাও। প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ নির্বাচন কেন্দ্রে কর্মরতদের হুমকি-ধমকির পাশাপাশি ‘ম্যানেজ’ করতে দক্ষিণাও দেওয়া হয়। তবে সব নির্বাচন কর্মী এসবে নত হন না, তা স্বীকার্য।

একসময়ে একটি আপ্তবাক্য চালু হয়েছিল- ভোটে জিততে চাই হোন্ডা, গুণ্ডা আর মণ্ডা। গুণ্ডারা এখন ‘ক্যাডারে’ নাম লিখিয়েছে। মণ্ডার ব্যবহার কমেছে। সে স্থলে ব্যবহূত হচ্ছে ছোট অস্ত্র। গণমাধ্যমের সংবাদ, ছোট অস্ত্রের গোপন বাজার এখন জমজমাট।

কালো টাকা আর অবৈধ অস্ত্র যমজ ভাই। ওরা হাত ধরাধরি করে চলে। একে অন্যের থেকে দূরে থাকে না। তাই নির্বাচনে কালো টাকার সঙ্গে অস্ত্র আসে, পেশিশক্তির দাপট বাড়ে। অবনতি ঘটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ না করে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ কি আদৌ সম্ভব? তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কালো টাকার খেলা বন্ধের কোনো বিকল্প নেই। আর তা কেবল নসিহত করে সম্ভব নয়, এর জন্য চাই কার্যকর পদক্ষেপ।

নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নিয়মবহির্ভূত প্যান্ডেল-তোরণ-মহড়া রোধে নির্বাচন কমিশন কঠোর হতে পারে, এলাকায় এলাকায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে পারে। আর একই নির্বাচনী এলাকার সব প্রার্থীর পরিচয়সংবলিত অভিন্ন পোস্টার করার ব্যাপারে ইসির অনীহার কারণ খুঁজে পাই না। এ সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়নযোগ্য।

কেবল প্রার্থীদের হিসাব বিবরণীর ওপর নির্ভরতা নয়, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়, প্রয়োজনে প্রতি প্রার্থীর দপ্তরে অডিটর নিয়োগ দিয়ে নির্বাচনী ব্যয়ের সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, ভারতের একসময়ের নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশন ১৯৯৩ সালে অল্প্রব্দ ও কর্ণাটকে অডিটর নিয়োগ দিয়ে টাকার খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।

চাইলে গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে গোপন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কিছু নয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সেই সদিচ্ছা আছে কি?  সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ