Skip to main content

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না

কামরুল হাসান মামুন : আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্তা-কর্তা কিছু একটা হতাম (যদিও আমার সেইরকম হওয়ার কোনোই ইচ্ছে নেই, সেটা কয়েকদিন আগেই বলেছিলাম) তাহলে কি করতাম! আমার ধারণা, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৫০% কিংবা তারও বেশি শ্রেণিকক্ষ বা সাধারণ কক্ষ দিবসের অর্ধেক সময়ই অব্যবহৃত থাকে। আমি হলে কয়েকটি ১০ থেকে ১৫ তলা লেকচার থিয়েটার তৈরী করতাম। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগগুলোর জন্য মোকাররমভবনে একটি লেকচার থিয়েটার হতো। যেখানে সেন্ট্রাল রুটিন কমিটির মাধ্যমে ওই বিভাগগুলোর ক্লাস রুটিন তৈরি করে কেন্দ্রীভূত একটি জায়গায় ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করার ব্যবস্থা করতাম। যেখানে থাকবে ক্যাফেটেরিয়া ও রহফড়ড়ৎ-গেমের ব্যবস্থা। এতে আন্তঃবিভাগীয় ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সম্পর্ক তৈরি হতো। সবচেয়ে বড় কথা হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেস বাঁচিয়ে আমরা ক্যাম্পাসে অনেক খোলা জায়গা রেখে সেখানে সবুজায়ন করতে পারতাম। বর্তমানে যেইভাবে চলছে সেটা যেন মঘের মুল্লুক। প্রত্যেক বিভাগ তার নিজস্ব ক্লাসরুম নিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন। ফলে নতুন নতুন বিভাগ হচ্ছে আর যে পারছে যেখানে সেখানে নতুন নতুন ভবন  তৈরি করে যতোটুতুই খোলা জায়গা ছিলো সেটা দিন দিন সংকুচিত হতে হতে ইতিমধ্যে এর সবুজভাব অনেকখানি হারিয়ে গেছে। অনেকের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শ্রেণিকক্ষ আর অনেকের প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ নেই বললেই চলে। একটি বিভাগে কেবল অফিস, ল্যাব এবং শিক্ষকদের বসার জন্য কক্ষ ব্যতীত অন্য কোনো রুম থাকতে পাওে না। এর বাইরে যতো রুম থাকবে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রালপুলে দিয়ে দেওয়া উচিত, যেন বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল রুটিন কমিটির মাধ্যমে ঐসব রুমের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসের বাহিরে অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের সাথে ইন্টারেক্ট করার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন তৈরিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মুখ্য উদ্দেশ্য। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় আর কোচিং সেন্টারের কোনো পার্থক্য থাকে না। ফেসবুক থেকে

অন্যান্য সংবাদ