Skip to main content

খুলনায় নবনির্মিত রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল শুরু রোববার

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় নবনির্মিত আধুনিক রেলস্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে রোববার। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ছেড়ে যাবে চিত্রা এক্সপ্রেস। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্টেশন থেকে রেল চলাচল শুরু হবে। রেলস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রিয়াদ আহমেদ জানান, চলতি বছরের ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনা সফরের সময় স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়েছিলো। আমরা এখন আনুসাঙ্গিক সব কাজ শেষ করেছি। ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় নবনির্মিত এ স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে চিত্রা এক্সপ্রেস। আর এর মাধ্যমেই নতুন স্টেশন থেকে রেল চলাচল শুরু হবে। জানা গেছে, নতুন স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন যাত্রার সময় উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক মো. মজিবর রহমান। স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ২৫ নভেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি নতুন স্টেশন থেকে ছাড়ার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নতুন রেল স্টেশনটি করা হয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট। প্রথম তলায় স্টেশন ভবনে থাকছে ৬টি টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় থাকছে স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়েটিং রুম, ফাস্ট ফুড এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় থাকছে রেলওয়ের প্রকৌশলীদের অফিস কক্ষ। এ স্টেশন চালু হলে একসঙ্গে ৬টি ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। থাকছে সিটিং ব্যবস্থা, সিসি ক্যমেরা ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। স্টেশন চত্বরে থাকছে দৃষ্টি নন্দন ফুলের বাগান এবং অধিক সংখ্যক গাড়ি পার্কিং’র ব্যবস্থাও। আধুনিক রেল স্টেশন চালু হলে খুলনার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সেই সঙ্গে ভারত যাত্রীদের খুলনা স্টেশনেই ইমিগ্রেশন ও চেকিংসহ সকল ভ্রমণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং ভাড়া কমানোর বিষয়েও দু’দেশের মধ্যে আলোচনা করে নিরাপদ ও সহজ যাত্রার দ্বার উন্মোচন করা হবে। এ স্টেশনে একসঙ্গে ৬টি ট্রেন প্রবেশ এবং বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে । সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, খুলনাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে আধুনিক রেল স্টেশন নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করতে না পারায় দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির কারণে নির্মাণ ব্যয় ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পে নতুন পানির ওভার হেড ট্যাঙ্কি যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে যায়। এরই মধ্যে কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের ডিজাইনে ত্রুটির কারণে নির্মানাধীন ২নম্বর প্লাটফর্মের ছাদে ফাঁটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভূক্ত করে বুয়েটের প্রকৌশলীদের পরামর্শে প্লাটফর্মের ছাদের দু’দিকে নতুন করে ভীম নির্মাণ করা হয়।