প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে সংসদ নির্বাচনের আগেই মামলা

আরিফুর রহমান তুহিন: চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই মামলা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে আগামী জানুয়ারিতে এ-সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে রিজার্ভ চুরির বিষয়টি কেউ যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সরকারের নীতি নির্ধারণের পরামর্শ মতে ডিসেম্বরের মধ্যেই মামলা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে ২০ তারিখের মধ্যেই রিজার্ভ চুরির মামলা করা হবে। ইতোমধ্যেই সকল কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় কেউ যেন বলতে না পারে যে, রিজার্ভ চুরির মামলা করেনি সরকার। এর সাথে সরকার জড়িত। এ বিষয়ে গত সেপ্টেম্বরেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও মামলা করার সর্বশেষ সময় হচ্ছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।

সূত্র জানায়, ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে এই মামলার প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালনার ব্যয় নির্ধারণ ও এফআইআর দায়েরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আদালত ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া হ্যাকিংয়ের ঘটনার পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনও তথ্য থাকলে তাও সরবরাহ করতে বিশ্বের সব দেশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা (আটশত আট কোটি টাকা) ডিজিটাল পদ্ধতিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করা হয়। এছাড়াও আরো প্রায় বিলিয়ন মাকিন ডলার হ্যাক করার চেষ্টা করলেও ফেডারেল ব্যাংক তা আটকে দেয়।
সূত্র জানায়, হ্যাকিং হওয়া অর্থের বিষয়ে ফিলিপাইনের আদালতে সিভিল ও ক্রিমিনাল আইনে দুটি মামলা চলছে। এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখ রিজার্ভ চুরির সাথে জড়িত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার এক নাগরিকের তথ্য প্রকাশ করে এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। চুরি যাওয়া প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার (২৪৪ কোটি টাকা) গেছে সোলারি ক্যাসিনিওতে। এই পরিমাণ অর্থ ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। আর ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার এবং আরসিবিসি ব্যাংকে জমা ৭০ হাজার ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া যায়নি ১ কোটি ৪২ লাখ ডলারের। বাকি অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আছে ফিলিপাইনের রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেমোর হিসাবে। ৬০ লাখ ডলার এখনও রয়েছে কিম অং-এর কাছে। এছাড়া ১২ লাখ ডলারের সন্ধান পাওয়া গেছে কিম ওয়াংয়ের দু’জন কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে। সম্পাদনা : সোহেল রহমান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ