প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসন পেতে মরিয়া মহাজোটের দলগুলো, প্রার্থী চূড়ান্তে সার্ভে করা হচ্ছে!

সাজিয়া আক্তার : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে। জানা গেছে, বিভিন্ন পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠকে দর-কষাকষি চলছে। শুধু শরিকদের সাথে সম্পর্ক রাখার খাতিরে আসন হারাতে চায় না আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন দেয়া হবে জনপ্রিয়তা ও জরিপের ভিত্তিতে। ৪০টির বেশি আসন নিশ্চিত হলে অন্তত অর্ধশত আসন চায় জাতীয় পার্টি। জোটে যুক্তফ্রন্ট থাকায় কমতে পারে ১৪ দলের শরিকদের আসন। তবে মহাজোটের প্রতিটি দল-ই বিভিন্ন আসনে প্রার্থিতা পেতে মরিয়া হয়ে লবিং অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ‘প্রার্থী চূড়ান্ত করা উচিত সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী’। সূত্র : যমুনা নিউজ

এদিকে জোটগত নির্বাচনের পূর্ব ঘোষণা থাকলেও শুধু আওয়ামী লীগের ফর্ম বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ২৩টি। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে ফর্ম বিক্রি যে পরিমানেই হোক, মনোনয়ন দেয়া হবে তৃণমূলের সাথে সম্পর্ক ও জরিপের ভিত্তিতে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন অনেকটা চূড়ান্ত হলেও শরিকদের সাথে চলছে হিসাব নিকাশ। বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টির এমপি আছেন ৩৬ জন। বিএনপি নির্বাচনে থাকায় তাদের আসন আর বাড়াতে চায়নি আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত ৫০টির মতো আসন পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে মহাজোটের বড় শরিক দলটি।

জানা গেছে, কমতে যাচ্ছে ১৪ শরিকদের আসন। বিকল্পধারার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের জোটে থাকার সম্ভাবনা ও নিজেদের বিভক্তির করণে একাধিক আসন হারাতে হচ্ছে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদকে। ৫টির বেশি আসন দেয়া হতে পারে যুক্তফ্রন্টকে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধিন জেপি একটি আসন পেলেও শূন্য থাকছে সাম্যবাদী দল। মহাজোটে থাকা ইসলামী দল ও জাকের পার্টির মাঝে ভাগাভাগি হতে পারে ৪ টি আসন।

আভাস পাওয়া গেছে, সব মিলে সর্বোচ্চ ৬৫টি আসন শরিকদের ছেড়ে দিতে পারে ক্ষমতাসীনরা। জোট ও আমেজের কারণে বাদ পড়তে পারেন ১০ জনেরও বেশি বর্তমান এমপি।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাথে ১৪ দলীয় ঐক্যজোট এবং জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আলোচনা করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। এতে হয়তো আরো ২-৩ দিন লাগতে পারে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা তাদের এলাকায় কাজ করেছেন, মানুষের কাছে যার জনপ্রিয়তা আছে, এবং যার বিরুদ্ধে কোনোরকম অনৈতিকতার অভিযোগ নেই, সেরকম সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়নে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

মহাজোটের প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হতে পারে। আমরা বসে নেই। ভেতরে-ভেতরে বৈঠক হচ্ছে। নির্বাচনে জিততে পারেন—এমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। নিজেদের অগ্রহণযোগ্য প্রার্থীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে। তাদের দুর্বল মনে করলে চলবে না। জিততে পারেন ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের বিষয়ে অনেকগুলো সার্ভে করা হয়েছে।’

আসন সংখ্যা যাই হোক, জোট-মহাজোটের শরিকদের সম্পর্কের অবনতি হবে না বলে ধারণা আওয়ামী লীগের নেতাদের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত