প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ জয়ের নায়ক অনেকে

স্পোর্টস ডেস্ক : ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালো বাংলাদেশ। টেস্টে অন্তত নিজেদের মাঠে বড় দলের বিপক্ষেও যে অপ্রতিরোদ্ধ হয়ে উঠছে টাইগাররা, তার প্রমাণ হয়ে থাকল চট্টগ্রামে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট।

স্পিন বান্ধন উইকেটে স্পিনারদের হাত ধরেই এসেছে মধুর এই জয়। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৬৪ রানে জিতেছে টাইগাররা। এক সময়ের পরাক্রমশালীদের বিপক্ষে এটি টাইগারদের তৃতীয় জয়।

এর আগে ২০০৯ সালে ক্যারিবীয়দের তাদেরই মাঠে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি ছিল দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও অনেক তারকা নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই ক্যারিবীয় দলে তা নিয়মিত চিত্র। তাই এবার আর দ্বিতীয় সারির দল বলে বাংলাদেশের জয়কে অবজ্ঞা করার উপায় নেই। নিজেদের ১১১তম টেস্টে এটি বাংলাদেশের ১২তম টেস্ট জয়।

মাত্র আড়াই দিন স্থায়ী হলো টেস্ট ম্যাচটির। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করার পর ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৫ রানের বেশি করতে পারে নি। তবে ২০৪ রানের লক্ষ্য পাওয়া ক্যারিবীয়দের ১৩৯ রানে গুটিয়ে দিতে ভুলে নি বাংলাদেশি স্পিনাররা।

সব ম্যাচেই কেউ না কেউ নায়কের আসনে বসেন। তা চট্টগ্রাম টেস্টের নায়ক কে? আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মুমিনুল হক। প্রথম ইনিংসে তার সেঞ্চুরিই (১২০) বলতে গেলে বোলারদের জন্য লড়াইয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগারদের।

তবে শুধু মুমিনুল হকই নন, এই জয়ে নায়কের আসনে বসাতে হবে আরো বেশ কয়েকজনকে। অভিষিক্ত নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান নিশ্চিতভাবেই এ ম্যাচের জয়ে বড় নাম হয়ে থাকবেন। মেহেদী হাসান মিরাজকেই বা দূরে সরিয়ে রাখা যায় কী করে।

নাঈম হাসান যেমন অভিষেকেই সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেটে নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ডটি গড়লেন। তার ৫ উইকেট শিকারের ফলে ক্যারিবীয়রা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২৪৬ রানে। তার আগে নাঈম ব্যাট হাতে ২৬ রান যোগ করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে। প্রথম দিনই যখন বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ দেখছিল, তখন নাঈম শক্তহাতে ব্যাট করেছেন। দ্বিতীয় দিন প্রথম সকাল পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন দলের ইনিংস। তাইজুলের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েছেন। ৯ নম্বরে নেমে তার ২৬ রান নিশ্চিতভাবেই অনেক সেঞ্চুরির সমান।

বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে নাঈম অবশ্য উইকেট পাননি। বলা ভালো তাকে সুযোগই দেননি তাইজুল, সাকিব, মিরাজরা। তাইজুল তো একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তার স্পিন ভেলকিতেই ধ্বসে পড়ে ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংস। ব্যাট হাতেও খারাপ করলেন কোথায়! প্রথম ইনিংসে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তাইজুল।

ওদিকে সাকিব আল হাসানের এটি ছিল প্রত্যাবর্তনের টেস্ট। ইনজুরি থেকে কি দুর্দান্তভাবেই না ফিরলেন তিনি। দেশের পক্ষে ২০০ উইকেটের কীর্তি গড়লেন। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ২ উইকেট। দুইশ উইকেট পূরণে একটি বিশ্ব রেকর্ডও হয়ে গেছে তার। টেস্টে একই সঙ্গে তিন হাজার রান ও ২০০ উইকেট শিকারে দ্রুততম সাকিব।

ব্যাট হাতেও দারুণ অবদান ছিল তার প্রথম ইনিংসে। দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন সাকিব। মুমিনুল হকের সঙ্গে ছিল দারুণ জুটি।

মেহেদী হাসান মিরাজ কি একটু আড়ালে থাকলেন এই টেস্টে? মোটেও না। প্রথম ইনিংসে ১ টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হয়তো বলার মতো কিছু নয়। কিন্তু উইকেটগুলো তিনি নিয়েছেন দারুণ সব ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল কার্যকরী ২২ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে আসে ১৮ রান।

সবমিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয় দিন শেষে সম্মিলিত টিম ওয়ার্কের ফলই বলতে হবে। যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদউল্লাহর ৩১ রানকেও দেখতে হবে বড় করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত