প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্পদের জন্য বাবাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি

ডেস্ক ‍রিপোর্ট: সম্পত্তির জন্য আবুল কালাম বাবুল নামে এক ব্যবসায়ীকে মানসিক ভারসাম্যহীন সাজিয়ে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে আদালতের নির্দেশে ২২ নভেম্বর রাতে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যবসায়ীর আইনজীবী বলছেন, সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ীকে নির্যাতনও করেছেন তার স্ত্রী-সন্তানরা।

তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ফার্মগেট এলাকার ‘ব্রেন অ্যান্ড মাইন্ড হসপিটালে’ চিকিৎসাধীন ছিলেন আবুল কালাম। পারিবারিক কিছু বিরোধের বিষয় রয়েছে। তবে পুলিশ সে ব্যাপারে তদন্ত করেনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, আবুল কালাম পণ্য আমদানিসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত। ২০১৬ সাল থেকে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে থাকেন না। পরীবাগ এলাকার একটি বাসায় তিনি একা থাকেন। সেটা তার অফিস হিসেবেও ব্যবহূত হয়। অদূরে আরেকটি বাসায় থাকেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার ছেলেমেয়ে লন্ডনে পড়ালেখা করেন।

ব্যবসায়ীর আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া জুবায়ের জানান, আবুল কালামের ছেলে আশিক কালাম শিহাব লন্ডনে একটি বাড়ি কেনার জন্য বাবার কাছে টাকা চান। তিনি টাকা দিতে আপত্তি করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে ছেলেমেয়েরা একজোট হয়ে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতে শুরু করে। এ নিয়ে আবুল কালামের

বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা-জিডিও করে তারা। সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর স্ত্রী-সন্তানেরা আলোচনার কথা বলে তার অফিসে যান। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। শেষে জোর করে তাকে তুলে নিয়ে ভর্তি করা হয় ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে। তিনি কখনও মানসিক সমস্যায় না ভুগলেও সেখানে তাকে মানসিক রোগী হিসেবে রাখা হয়। খবর পেয়ে আবুল কালামের বড় ভাই হাসপাতালে গেলে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বরং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তাকে আবুল কালামের ছবি দেখানো হয়। অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবুল হোসেন। আদালত তার আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধারের পর গতকাল আদালতে নেওয়া হয়। রোববার তাকে অন্য আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।

ব্যবসায়ী আবুল কালাম বাবুল জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো না। তিনি একসময় বিচ্ছেদের কথা ভাবলেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেন। তার মানসিক রোগ নেই। কিন্তু জোর করে তাকে মানসিক রোগী বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারধর করা হয়। তার ছেলে আশিক কালাম শিহাব এমন ছিলেন না। কিন্তু আত্মীয়দের প্ররোচনায় তিনি এমন আচরণ করছেন বলে তার ধারণা।

মানসিকভাবে অসুস্থ না হওয়ার পরও তাকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রেন অ্যান্ড মাইন্ড হসপিটালের ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার বলেন, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা তাকে এনে ভর্তি করেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা শুরু হয়। আর তাদের হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ২১ দিনের আগে রোগীকে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। তাই তার ভাইকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ব্যবসায়ীর ছেলে আশিক কালাম শিহাবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ