Skip to main content

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের টেস্ট জয়

এল আর বাদল : আট বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট জয় করলো বাংলাদেশ। এ জয় অন্যসব জয়ের মতো নয়, একেবারে প্রতিশোধের জয়, চ্যালেঞ্জিং জয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দুই টেস্টেই বাংলাদেশ তিন দিনে হেরেছিলো। সেই উইন্ডিজকে চট্টলার মাটিতে প্রায় তিনদিনেই টাইগাররা হারিয়ে লালন করা যন্ত্রণা ফিরিয়ে দিলো। সেই সঙ্গে ৬৪ রানের বড় জয় নিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে রাখলো। জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে যন্ত্রণা ফিরিয়ে দেওয়ার সিরিজের শুরুটা হল দারুণ। বাংলাদেশের কাছ থেকে ২০৪ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পাওয়া সফরকারীদের ১৩৯ রানে থামিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট ৬৪ রানে জিতে নিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। এই সংস্করণে এটি তাদের টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে দ্বাদশ জয়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম আর সব মিলিয়ে তৃতীয় জয়। এদিন ৩৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সফলতম বোলার তাইজুল ইসলাম। চট্টলার উইকেটে সাকিব, মিরাজ আর তাইজুলের বল যেনো সাপের মতো ফণা পাকিয়ে ছোবল মারছিলো। সাকিব ও তাইজুলের জোড়া আঘাতে ১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ অবস্থায় ২০৪ রানের লক্ষ্যটা তখনই হয়ে যায় পাহাড়সম। ২২ গজে টিকে থাকা কঠিন বলেই কিনা বিরতির পরের ওভারে সাকিবকে টানা দুই চার ও এক ছক্কা মেরে আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখান হেটমায়ার। মিরাজের বলে এ বাঁহাতির ১৯ বলে ২৭ রানের প্রতিরোধ গড়া ইনিংসটি থামার পর তাইজুলের স্পিন ভেলকি ডানা মেলে। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ৬ উইকেট শিকার করে তৃতীয় দিনের চা-বিরতির আগেই ক্যারিবীয়দের গুটিয়ে দিয়েছেন ১৩৯ রানে। সকালে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখায় উইকেট। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে ঘূর্ণি, বাউন্স। হতে থাকে মন্থর। তাতে ব্যাটসম্যানদের চাপ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আগের দিনের করা ৫ উইকেটে ৫৫ থেকে বাংলাদেশের ইনিংসে গতকাল যোগ হয় আরও ৭০ রান। প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড যোগ হয়ে স্বাগতিকদের পুঁজি দাঁড়ায় ২০৩ রানের। লক্ষ্যটা সফরকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। শুরুতেই কাইরেন পাওয়ালকে (০) ফিরিয়ে টেস্টে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ উইকেট শিকারের উদযাপন সারেন সাকিব। ডাবলের রেকর্ডে ছাড়িয়ে যান ইয়ান বোথামকে। বল হাতে উইকেটের ডাবল সেঞ্চুরি ও তিন হাজার রান সংগ্রহে সবচেয়ে কম ম্যাচ (৫৪) খেলা ক্রিকেটার এখন সাকিব। ইংলিশ অলরাউন্ডার ইয়ান বোথামের লেগেছিল ৫৫ ম্যাচ। দলীয় ১১ রানের মাথায় সাকিবের আঘাতে শাই হোপ (৩) বিদায় নেন। পরের ওভারে তাইজুল বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন ব্র্যাথওয়েটকে (৮)। পঞ্চম বলে ফেরান চেসকে (০)। শূন্য রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় উইন্ডিজ। বিরতির আগে যেভাবে উইকেট পড়ছিল তখনই উঁকি দেয় প্রতিশোধের সম্ভাবনা। বিরতির পর সাকিবের এক ওভারে ১৭ রান তুলে সে আশা ভেঙে দেন হেটমায়ার। ৭৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগে উন্ডিজের। তবে নবম উইকেট জুটিতে ওয়ারিকেন ও আমব্রিস মিলে ৬৩ রান যোগ করে অপেক্ষা বাড়ান। ৪১ রানের ইনিংস খেলা ওয়ারিকেন মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হলে ভাঙে জুটি। আর ১ রান যোগ হতেই আমব্রিসকে (৪৩) মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে জয়োৎসবে মাতেন তাইজুল।