প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নওগাঁয় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার বাড়লেও জানা নেই ব্যবহারবিধি

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ : শহরের খাস-নওগাঁ মহল্লার গৃহবধু মৌসুমী সুলতানা শান্ত। ভাড়া ফ্লাট বাসায় জ্বালানি খড়ি ব্যবহারে অসুবিধা হতো হওয়ায় তিনি গত পাঁচ বছর থেকে রান্না করছেন সিলিন্ডার গ্যাসে। গ্যাস শেষ হলেই ফোন করে জানালে নতুন আরেকটি সিলিন্ডার দিয়ে যান দোকানি। তবে এ সিলিন্ডারের মেয়াদ আছে কিনা বা কতটা নিরাপদ এবং ঠিকমতো ব্যবহার বিধি জানেন না তিনি। শুধু মৌসুমী সুলতানা শান্ত নয়। জেলার বেশির ভাগ মানুষই জানেন না সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার।

জানা গেছে, বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারের একটি অংশ হিসেবে জ্বালানি কাজে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অসাবধানতা ব্যবহারে যন্ত্রাংশের ত্রুটিতেই ঘটছে বিস্ফোরণ ও দূর্ঘটনার। ফলে ঝুঁকি জেনেও সুবিধা হওয়ায় এখন বাসা-বাড়ি ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে রান্না কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এর ব্যবহার বাড়লেও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে আমাদের অনেকের অজানা। আবার সিলিন্ডারের উৎপাদন মেয়াদ থাকলেও মেয়াদ উত্তির্ণের কোন তারিখ থাকে না। থাকে না নির্দিষ্ট কোন দাম। ফলে ক্রেতারা বিভিন্ন দোকান থেকে বিভিন্ন দামে কিনে থাকেন।

দিন দিন চাহিদা বাড়ছে সিলিন্ডার গ্যাসের। ফলে সিলিন্ডার গ্যাস এখন শহরতলী থেকে শুরু করে প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করছেন। সিলিন্ডারগুলো বছরের পর পর বছর ব্যবহার করায় রং উঠে মরিচা ধরেছে। কিন্তু তারপরও ব্যবহার করা হচ্ছে। আর যে কোন সময় এসব সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দূর্ঘটনার ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতনরা। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় কোন নিয়মনীতি না মেনেই শহরের যে কোন দোকানেই মিলছে এসব সিলিন্ডার গ্যাস। যার অধিকাংশ দোকানের কোন বিস্ফোরক লাইসেন্স এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র নাই। সিলিন্ডার কোম্পানিগুলো এর উৎপাদন ও মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ এবং নির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতনরা।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১১টি উপজেলায় ইটভাটা, ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, ধানের চাতালসহ বিভিন্নক্ষেত্রে অনন্ত দুই হাজার বিস্ফোরক লাইসেন্স রয়েছে।

শহরের থানার মোড়ের সচেতন ব্যক্তি রামিম দেওয়ান বলেন, বর্তমানে বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস রান্নার কাজে খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি লাকড়ি/খড়ির তুলনায় সহজবোধ্য। কিছু ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় বিক্রি করলেও ব্যবহার বিধি জানা নাই। এমনকি তাদের লাইসেন্স এবং অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র নাই। অসাবধানতা বসত দেশের বিভিন্ন স্থানে দূর্ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। সেই সাথে সিলিন্ডার গ্যাসের গায়ে এর মেয়াদ ও মূল্য যেন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান।

শহরের দয়ালের মোড়ে মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্স এর মালিক ডিএম শাহানুর শাবিব শানু বলেন, লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি। ডিলারের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনি। প্রত্যেক সিলিন্ডারে উৎপাদের মেয়াদ থাকে। কিন্তু মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ থাকে না। কোম্পানি মালিকরা বলেন, সিলিন্ডারের ক্ষমতা ৫০ বছর। এরমধ্যে কোন ক্রুটি থাকলে বাদ দেয়া হবে। বাসা-বাড়িতে ব্যবহারের জন্য যারা কিনে নিয়ে যান, তাদের বলে দেয়া হয় গ্যাস বের হলে দূর্গন্ধ হবে। তখন যেন জ্বালানির কাজে ব্যবহার না করে।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-সহকারী পরিচালক একেএম মুরশেদ বলেন, সিলিন্ডার গ্যাস এখন বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতে দেখা যায়। ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। যেখানে ধার্য্য বস্তু থাকবে অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হতে পারে সেখানে ফায়ার লাইসেন্স দেয়া হয়। জননিরাপত্তার কারণে এবং শর্ত থাকে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও বালু, পানি অন্যান্য থাকতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সংবাদ দেয়ার জন্য ফায়ার স্টেশনের নাম্বার রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জেলায় পাঁচটি স্টেশন চালু আছে। অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরক থেকে রক্ষা পেতে প্রতি মাসে ২০ টি গণসংযোগ ও মহড়া প্রদর্শণ করে সচেতনতা বাড়ানো হয়। গ্যাসের চুলা ব্যবহারে কি কি সমস্যা আসতে পারে এবং কিভাবে মোকাবেলা করা হবে এ বিষয়গুলো জনগণকে বুঝানো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত