প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩ দিনেই টেস্ট জয় বাংলাদেশের

রাকিব উদ্দীন : চট্টগ্রামে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে তৃতীয় দিন শেষ হওয়ার আগেই ৬৪ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সফরকারীদের ১৩৯ রানে বিদায় করে বাংলাদেশ এ কৃতিত্ব অর্জ ন করে।এ দিন প্রথম সেশনে শুরুতেই বিদায় নেন মুশফিকুর রহিম। দলীয় ৬৯ রানের মাথায় গ্যাব্রিয়েলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি করেন ১৯ রান। এরপর ব্যক্তিগত ১৫ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১০৬ রানের মাথায় বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায়। ব্যক্তিগত ১৮ রান করে দেবেন্দ্র বিশুর বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন মিরাজ। বিশুর স্পিনে টিকতে পারেনি অভিষিক্ত নাঈম। স্লিপে ক্যাচ তুলে উইকেট হারিয়ে ৫ রান করেই ফিরতে হয় তাকে। একই ওভারে মাহমুদুল্লাহকে ও সাঝঘরে পাঠান বিশু। বিশুর বোলিং চমকে স্পিনে ক্যাচ তুলে দেয় মাহমুদুল্লাহ। ব্যক্তিগত ৩১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাকে। শেষ মূহুর্তে উইকেট ধরে রাখতে পারেননি তাইজুলও। মাত্র ১ রান করে চেসের বলে ফিরে যেতে হয় তাকে। আর এরইমধ্যে উইন্ডিজদের ২০৪ রানের টার্গেট চুড়ে দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা সমাপ্ত করলো বাংলাদেশ।

টাইগারদের দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে উইন্ডিজরা। ব্যক্তিগত ২য় ওভারে উইন্ডিজ ওপেনার পাওয়েলের উইকেট নেন সাকিব। মুশফিকের স্টামপিংয়ে পাওয়েলকে ০ রানেই ফিরে যেতে হয় প্যাভিলিয়নে। সাকিবের স্পিন ঘূর্ণিতে প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় হোপ কে। ব্যক্তিগত ৩ রান নিয়ে ফিরতে হয় তাকে। ১১ রানের মাথায় ওপেনার ব্রেথওয়েটকে শিকার করে উইন্ডিজ শিবিরে আঘাত হানেন আবার তাইজুল। ৮ রান নিয়ে ফিরতে হয় ব্রেথওয়েটকে। লাঞ্চের আগে তাইজুলের অসাধারণ স্পিনে লেগ বাই উইকেটের শিকার হয় রোস্টন চেজ কে। ০ রানেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে হয় চেজকে।

লাঞ্চের পর ক্যারিবিয়দের হার্ড-হিটার ব্যাটসম্যান হেটমেয়ার কিছু এগিয়ে গেলেও মিরাজের স্পিনে তাকে ২৭ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়। আবারো তাইজুলের স্পিন চমকে ডরউইচকে ফিরে যেতে হয় এলবিডব্লিউর কবলে পড়ে। দলীয় ৫১ রানে ফিরে যেতে হয় তাকে।ক্যারিবিয় শিবিরে আবার আঘাত হানেন তাইজুল। ব্যাটসম্যান দেবেন্দ্র বিশুকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তাইজুল। দলীয় ৬৯ রানে ব্যাক্তিগত ২ রান নিয়ে ফিরে যেতে হয় বিশুকে। তাইজুলের স্পিন যাদুতে ফিরতে হয় কেমার রোচকে। ব্যক্তিগত ১ রান নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান রোচ।ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত মিরাজের স্পিনে ওয়ারিকান বল তুলে দেয় সাকিবের হাতে। ব্যক্তিগত ৪১ রান করে ফিরে যেতে হয় ওয়ারিকানকে। শেষ উইকেটের জন্য বেশীক্ষন অপেক্ষা করে থাকতে হয়নি টাইগারদের। তাইজুলের স্পিনে সুনীল অ্যামব্রিসের ব্যাটে লেগে বল তালুবন্দি হয় মুশফিকের। অপরাজিত থাকেন গ্যাব্রিয়েল। আর ১৩৯ রানেই ঘুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়দের ইনিংস।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ৩২৪ রানের বিপরীতে দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে ২৪৬ রানে থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংস। উইকেটে ৬২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন শেন ডরউইচ ।

প্রথমেই ওপেনিংয়ে নেমে ব্রাথওয়েইটের সঙ্গে ২৯ রানের জুটি গড়েন কিয়েরন পাওয়েল। সেই জুটিতে হানা দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার করা বলে লেগ বাই উইকেটের শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফেরেন কিয়েরন পাওয়েল । ১ রানের ব্যবধানে উইকেটে হানা দেন সাকিব আল হাসান। ইনজুরি থেকে ফিরে ইনিংসে নিজের করা প্রথম বলেই শাই হোপকে ব্যক্তিগত ১ রানে ফেরান দেশ সেরা এই অলরাউন্ডার । ওভারের শেষ বলে আবারো উইকেটে হানা দেন সাকিব। দলীয় ৩১ রানে সাকিবের বলে সৌম্যের হাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন ক্রেইগ ব্রাথওয়েইট। ফেরার আগে ১৩ রান করেন এই ওপেনার।৩ উইকেটে ৫৪ রান তুলে লাঞ্চের বিরতিতে যায় উইন্ডিজরা।

লাঞ্চের পর সুনীল অ্যামব্রিসের সঙ্গে জুটি গড়ে এগুতে থাকেন রোস্টন চেজ। তবে সেই উইকেটে হানা দেন অভিষিক্ত অফস্পিনার নাঈম হাসান। তার করা বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩১ রান করা রোস্টন চেজ। তাতেই টেস্টে উইকেটের খাতা খুললেন নাঈম। ১১ রানের ব্যবধানে আবারো উইন্ডিজ উইকেটে আঘাত হানেন নাঈম। দলীয় ৮৮ রানে তার বলে এলবির শিকার হয়ে ফেরেন ১৯ রান করা সুনীল অ্যামব্রিস।

এরপর শেন ডরউইচকে সঙ্গে নিয়ে জুটি শক্ত করে খেলতে থাকেন শিমরন হেটমেয়ার। দু’জন মিলে দলকে টেনে নিয়ে যায় ১৮০ রানে। তবে সেই জুটি ভেঙে দেন মিরাজ। তার বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৬৩ রানে ফেরেন হেটমেয়ার । এরপর দেবেন্দ্র বিশুকে সঙ্গে করে দ্বিতীয় সেশন শেষ করেন শেন ডরউইচ।

তবে বিরতির পর সেই উইকেটে হানা দেন নাঈম। দলীয় ১৯৯ রানে দেবেন্দ্র বিশুকে ব্যক্তিগত ৭ রানে এলবিতে ফেরান অভিষিক্ত এই স্পিনার। বিশুকে ফেরানোর পর কেমার রোচকেও ফেরান তিনি। দলীয় ২০৫ রানে নাঈম বলে এলবির শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে ফেরেন রোচ ।

দলীয় ২২৫ রানে আবারো হানা দেন নাঈম। বোল্ড করে জোমেল ওয়ারিকান ব্যক্তিগত ১২ রানে ফেরান তিনি। আর তাতেই বাংলাদেশের অষ্টম বোলার হিসেবে অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট তুলে নিলেন ১৭ বছর বয়সি এই তরুণ স্পিনার। আর দলীয় ২৪৬ রানে সাকিবের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬ রান করা শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। তাতেই ইনিংস থেমে যায় উইন্ডিজদের।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮ রানে থেকে এগিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দুই ওপেনার আউট হয়ে ফেরেন দলীয় ১৩ রানেই। জোমেল ওয়ারিকানের বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর রোস্টন চেজের বলে ক্রিইগ ব্রাথওয়েইটের ক্যাচে সৌম্য সরকার ফেরেন ব্যক্তিগত ১১ রানে ।

ইমরুল-সৌম্যের পর দলীয় ৩২ রানে ফেরেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। চেজের বলে এলবির শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ১২ রানে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তিন রানের ব্যবধানে ১ রান যোগ করে ফেরেন ইনজুরি থেকে ফেরা অধিনায়ক সাকিব। ওয়ারিকানের বলে গ্যাব্রিয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আর তাতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মুশফিকের সঙ্গে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন  মোহাম্মদ মিথুন। তবে দলীয় ৫৩ রানে বিশুর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ