প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কথা রাখেনি আওয়ামী লীগ!

রবিন আকরাম : টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দলটির সাংসদদের কেউ কেউ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। কারও বয়স হয়েছে। কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে আছে দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ।

এনিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রায় সময় গণমাধ্যমে বলতে শুনা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত কোন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যোগ্য প্রার্থী ও যাদের আমলনামা ভালো তারাই মনোনয়ন পাবেন।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, যারা দলের জন্য দায় তাদেরকে আর টানা যাবে না৷ তাদের বাদ দিয়েই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে যেতে হবে।

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা অপকর্ম করেছেন তারা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। তরুনদেরকে দেশ গড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, নির্বাচনে যেসব প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজ দেখা হবে। তিনি বলেন, যারা বিতর্কিত, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে এবং যারা জনগণ থেকে দূরে সরে গেছেন তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তাছাড়া কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা জোর আওয়াজ তুলেছিলেন, বিতর্কিত কোনো সাংসদ মনোনয়ন পাবেন না, শুধু পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সাংসদেরা মনোনয়ন পাবেন। তারা এই ধারণা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন, আওয়ামী লীগের ৮০ থেকে ১০০ জন সাংসদ মনোনয়ন না-ও পেতে পারেন। তাদের স্থলে তরুণেরা মনোনয়ন পাবেন। কারণ, উন্নয়নের স্লোগান নির্বাচনী মাঠে সুবিধা করতে না পারলেও ‘ক্লিন ইমেজের তরুণ তুর্কিরা’ বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু বেলা শেষে দেখা গেল, বিতর্কিত-সমালোচিত প্রায় সব সাংসদই ফের মনোনয়ন পাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি সোহরাব হাসান বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে যেসব খবর আসছে, তাতে দেখা যায়, বর্তমান সংসদের মাত্র ১৩ জন মনোনয়নবঞ্চিত হচ্ছেন, যার মধ্যে দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম এসেছে। যেসব সাংসদের বিরুদ্ধে ৩০ থেকে ৪০ জন স্থানীয় নেতা অনাস্থা জানিয়েছেন; তারাও মনোনয়ন পাচ্ছেন।

‘দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জবানি থেকে আমরা জানতে পারলাম, কক্সবাজারের আবদুর রহমান বদি এবং টাঙ্গাইলের আমানুর রহমান খান রানা এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন না। রানা এখন ডবল খুনের মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে, আর বদিকে মানুষ চেনে ইয়াবা ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। কিন্তু এই দুটি আসনে আওয়ামী লীগ পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কাউকে মনোনয়ন দিচ্ছে না। বদির আসনে তার স্ত্রী ও রানার আসনে তার বাবা মনোনয়ন পাচ্ছেন। এটিকে শাস্তি না বলে ইনাম বলা শ্রেয় হবে।’

সোহরাব বলেন, বদির স্ত্রীর মনোনয়নের খবর পড়ে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের স্ত্রী রাবড়ি দেবীর কথা মনে পড়ল। দুর্নীতির দায়ে লালু জেলে গেলে তাঁর স্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী হন। ভবিষ্যতে বদির স্ত্রীও মন্ত্রী হলে অবাক হব না। ছেলের অপরাধের জন্য বাবাকে দায়ী করা যায় না সত্য। কিন্তু ছেলের অপরাধের জন্য বাবার পুরস্কৃত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতেই সম্ভব।

‘আওয়ামী লীগের যে তরুণেরা বিরাট আশা নিয়ে পাঁচ বছর ধরে কাজ করেছেন, তাদের ৯০ শতাংশই মনোনয়ন পাবেন না। নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় দেখেছি, ক্ষমতাসীনেরা তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবার দলের তরুণদের মনের ভাষাও পড়ার চেষ্টা করেননি নেতারা। জোট, মহাজোট, অতিরিক্ত জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হয়ে গেলে আওয়ামী লীগের তালিকা চূড়ান্ত হবে। সেই তালিকায় আর যাদেরই নাম থাকুক না কেন, তরুণদের আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছু থাকবে না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ