প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লুকোচুরি

ড. আশিকুর রহমান : গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন এক রাজনৈতিক জোট গঠন করেন। এই ফ্রন্ট গঠনের বিষয়টি খুবই অস্পষ্ট। জোট গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা এক ধরনের লুকোচুরি খেলা খেলছেন। যদি তারা এখনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে না পারেন, তাহলে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে ভোটাররা এই জোটকে প্রত্যাখান করতে পারে।

যদি এই জোট নির্বাচনে জেতে তাহলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, তা এখনও প্রকাশ করেনি জোটের নেতারা। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। এছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হামলার রায় হলো গত ১০ আগস্ট, যেখানে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ওই রায়ের ঠিক দু’দিন পরই জোট গঠন নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তার ওপর, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর, দেশে যে ইনডিমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়, তা পাস হয় ১৯৭৯ সালের সংসদে। আর ঐ সময় ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি, যে দলটি কিনা জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রধান একটি দল। গত ১৬ নভেম্বর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে বৈঠকে বসেন জোটের নেতারা। ঐ বৈঠকে তাদেরকে প্রশ্ন করা হয়, যদি জোট জেতে তাহলে কে হবেন সরকার প্রধান? বৈঠকে এই প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর দেননি তারা। বরং জানিয়েছেন, ওইসব পত্রিকা বরাবর উত্তরটি পরে পাঠিয়ে দেয়া হবে!

আমি মনে করি, নির্বাচনের আগেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজনৈতিক অবস্থান সুস্পষ্ট করতে হবে। যদি তা না করতে পারে, তাহলে তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া উচিত হবে না। লেখক : জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। মূল ইংরেজি লেখা থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ