প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু পরামর্শ

মো. আহসানুল হক : আজকের এই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার নিরাপত্তা এমন একটি বিষয় যা শুধু উন্নত দেশ নয়, এমনকী আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর ভাইরাসের আক্রমণ হচ্ছে,যার মধ্যে নতুন একটি নাম হল ‘জধহংড়সধিৎব’। বহু টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান তথ্য এই ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়। ‘জধহংড়সধিৎব’ এমন একটি ভাইরাস, যা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে থাকা সকল তথ্য এক নিমিষে নষ্ট করে দিতে পারে। ভাইরাস ছড়ানো এবং সেগুলো দ্বারা ক্ষতিসাধন মূলত হ্যাকাররাই করে থাকে, যা থেকে পরিত্রাণের উপায় হয়তো বেশিরভাগ মানুষ বা কোম্পানিরই জানা নেই। তাই ভার্চুয়াল তথ্যের নিরাপত্তা এখন মানুষের একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে সাধারণ কিছু জ্ঞানও নিশ্চিত করতে পারে খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা। আমরা সকলেই কোনো না কোনো ভাবে ই-মেইল ব্যবহার করে থাকি। ব্যাংক লেনদেন, অনলাইন কেনাকাটায় টাকা লেনদেন এমনকি অনলাইন গেমিং-এর (মাইনক্র্যাফট, ডাটা-২) মতো বিষয়েই অনলাইনে তথ্য বিনিময় করা হয়। এইসব কিছু বিবেচনায় রেখেই সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, কখনোই একই ই-মেইল অ্যাড্রেস দিয়ে অনলাইনে সবরকমের কাজ করা উচিত নয়। এর ফলে হ্যাকাররা ‘থার্ড পার্টির’ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে নিমিষেই সেই আকাউন্ট হ্যাক করে ফেলতে পারে। সে ক্ষেত্রে করণীয় হতে পারে, দুটো কাজের জন্য আলাদা দুটো মেইল আইডি খোলা। যার একটি দিয়ে ব্যবহারকারী সকল রকম লেনদেনের কাজ করবেন এবং আরেকটি দিয়ে বিভিন্ন ‘থার্ড পার্টি’ সাইট চালাবেন। এছাড়া যদি একই অ্যাকাউন্টে সব ধরনের কাজ করতে হয় তবে ‘টু ফ্যাক্টর’ অথেনটিকেশন অপশনটি যেন অবশই চালু থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ নিচে দেয়া হলো, যা দ্বারা আপনি আপনার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন-

* স্প্যাম এবং ফিশিং ধরণের ই-মেইল সর্বদা নজরে রাখা এবং সেগুলোতে প্রবেশ না করা।

* ‘টু ফ্যাক্টর’ অথেনটিকেশন অপশনটি যেন অবশ্যই চালু থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

* অনলাইনে যা পড়া হচ্ছে, সবসময় সেটা বিশ্বাস না করা এবং মাধ্যমটি নিরাপদ কিনা সেটি নিশ্চিত করা।

* অজ্ঞাত কারো কাছ থেকে আসা ই-মেইল না জেনে না খোলা, যেটা কম্পিউটারে ক্ষতিকর ভাইরাস প্রবেশ করতে সহায়তা করে।

* অনলাইনে অপরিচিত কারো সাথে পরিচয় হলেও তার কাছে নিজের ব্যক্তিগত কোনো তথ্য না প্রকাশ করা।

* থার্ড পার্টি অনলাইন গেমস যেমন- মাইনক্র্যাফট, ডাটা-২ ইত্যাদিতে গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার না করা।

* কম্পিউটারে যে কোনো অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা।

* ৩ মাস পর পর ই-মেইল অ্যাকাউন্ট-এর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা (বিভিন্ন প্রতীক ও চিহ্ন দিয়ে)।

* ই-মেইলে দেওয়া কোন লিঙ্ক সরাসরি সেখানে না খুলে, টজখ কোডটি ব্রাউজারে কপি পেস্ট করে প্রবেশ করা।

সাইবার সম্পর্কে আরও তথ্য জানুন ‘ইনফো গ্রাফিক’ এ।

উপরের পরামর্শগুলো সাধারণ অনেক সমস্যায় উপকারে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এছাড়াও বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে অন্তত একজন আইটি বিশেষজ্ঞ থাকা প্রয়োজন, যারা সর্বদা অনলাইন কার্যক্রমে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারবে। লেখক : পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউশন অফ পিস এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ