প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষমতা তাদের সাপোজিটরি পাব্লিকের!

সালাহ্ উদ্দীন পল্লব : আসেন মামু আসেন, আম্নের সকালের পায়েস চা বানাইতে বেশি সুমায় লাগবো না!

: সকাল সকাল খাতির করছো যে! ঘটনা কি?

: আম্নে তো কিরটিব লুক, আম্নেরে একটা সমুস্যা জিগাইতে চাই।

: দেখো, সপ্তাহের ছুটির দিনে সকালের চা খেতে তোমার এখানে আসি। তোমার সমস্যা শুনতে নয়। চা, দাও।

: আম্নে আমার সমুস্যা হুনেন আর আমি আম্নের পায়েস চা বানাই…।

: হুম, বলো।

: গত তিন দিন ধইরা আম্নের মামীরে আমি স্যালাইন আর সাপুজিটরি দিতাছি। কিন্তু কামের কাম কিছুই হইতেছে না। কি করুম অহন?

: সেকি! মামীর ডাইরিয়া আর জ্বর? আর তুমি তিন দিন ধরে নিজে নিজে ডাক্তারি করে যাচ্ছো?!

: আরে ধুর মিয়া! আম্নের মতন বেহুদা বুজুইন্যা লুক আমি আমার কেতলির বয়সেও দেহি নাই! আম্নের মামীর জ্বর আর ডাইরেক্ট হইছে এইডা কইলো ক্যাডা?

: তুমিই না বললে মামীকে তিনদিন ধরে স্যালাইন খাওয়াচ্ছো আর সাপোজিটরি দিচ্ছো!

: হ, হেইডা কতা সইত্য কিন্তুক জ্বর আর ডাইরেক্ট তো আমার হইছে, আম্নের মামীর না।

: কি! অসুখ তোমার আর ওষুধ খাওয়াচ্ছো মামী কে? তোমার পুরা গুস্টিই কি পাগল?

: আর একখান গাইল দিলে কিন্তুক চায়ের ছাকনি দিয়া বাড়ি দিয়া আম্নের সুপারি ছুটায় দিমু। যেই দেশে যেই নিয়ম আমিও সেম্নে চলি।

: আচ্ছা বাবা ভুল হয়েছে। কিন্তু এমন নিয়ম কোথায় পেয়েছো?

: ক্যান! যেই এম্পি-উম্পি গুলানের বদনাম আছে, যাগো নিয়া পুত্রিকায় শত শত লেখা হইছে, যারা সুমানে বদনাম কামাইছে, নেশা অলা জিনিস বেইচ্যা বেড়াইছে… এইবার হেগো নুমিনিশান না দিয়া দিতাছেন হেগো ঘরের মানুষরে! এম্নে যদি সমুস্যার সমাধান হয় তাইলে আমার অসুখে আমার বউ ওষুধ খাইলে ক্ষতি কি?

: আহা! এটা পলিটিক্স আর তুমি যা করছো তাতে তো মামীর জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে!

: এই দ্যাশে পলিটিক্সেই সব থাইকা বেশি লুক মরছে। অতিবদি সাবের বউ এম্পি হইলে সাংসদের জামাই হিসাবে ক্ষমতা কার হইলো!

: না না, তুমি বোঝার চেষ্টা কর। এতো বড় দল নিশ্চয়ই না বুঝে…।

: আমারে বুজ আর অবুজ বুজাইতে আইসেন না! মূর্তির মতন খাড়াইয়া থাইকা আবার চাইরপাশ দেখতে কইবেন, আবার কইবেন কতা কওন যাইবো না, আজাইরা কিছু হইলেও কতা বন্ধ কইরা খালি খাড়ায় থাকতে হইবো… মশকরা করেন মিয়া? তাইলে শাড়ি কাপরের দুকানে মাইয়া পোলাগো যেই সব মূর্তি থাকে হেইডি আইন্যা গলায় পর্যবেক্ষক লিইখা দিয়া খাড়া করায় দিলেই পারেন! অগো গায়ের কালার দেইখা আমরা বুইঝা লমুনে কুন্ডা কুন দ্যাশ থিকা আইছে।

: না না, তুমি ব্যাপারটাকে পজেটিভ ভাবে দেখো…।

: যেইটা নিগেটিভ সেইটারে হাজারবার পজিটিভ কইলেও লাভ নাই। পুতুল পর্যবেক্ষক খাড়া করাইয়া সিট ধইরা রাখতে বউ পোলা দিয়া ইলেকশান করায়া কি লাভ হইবো? দ্যাশের অসুখ কি সারবো? আম্নেগো মতন মানুষের সিদ্ধ ডিমের মতন বুদ্ধির জইন্য দ্যাশের মানুষ পস্তাইবো সারা জীবন। যান মিয়া ফুটেন! আম্নেরে এককাপ গরম পানিও দেওন যাইবো না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ