প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রয়োজনে লড়াই করে ভোট দিতে হবে : মওদুদ

কালের কন্ঠ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিএনপির জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে ‘লড়াই করে ভোট’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার ও এই নির্বাচন কমিশন এক ও অভিন্ন।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, ‘এবারই শেষ চান্স, শেষ পরীক্ষা। দরকার হলে আপনাদের লড়াই করে ভোট দিতে হবে। অর্থাৎ যারা আপনাদের বাধা দেবে তাদের প্রতিহত করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। যদি ধানের শীষের পক্ষে ভোটাররা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ভোটকেন্দ্রে যায় এবং লড়াই করার জন্য রেডি থাকে—যে আমাকে বাধা দেবে তাকেও আমি বাধা দেব, আমার ভোট আমি দেবই। এটা যদি করাইতে পারেন, বিজয় আপনাদের নিশ্চিত।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব বলে ঘোষণা দিলাম তখন মাঠপর্যায়ে দেখা গেল তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেসব রিপোর্ট দিয়েছে, একটা রিপোর্টেও বলেনি যে তারা জয়লাভ করবে নির্বাচনে। তারা ডেসপারেট হয়ে গেছে, বেপরোয়া হয়ে গেছে, তারা ধানের শীষের জোয়ারকে ভয় পাচ্ছে। আমি বলতে চাই, ধানের শীষের জোয়ার যখন আসবে, তাদের (সরকার) সমস্ত পরিকল্পনা, সমস্ত নীলনকশা ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। দেশের মানুষের মনের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এতে ধানের শীষের জোয়ার আসবে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখন এলাকায় এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের হয় গ্রেপ্তার করছে, না হয় ঘরছাড়া করছে, যাতে করে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন এ ধরনের গ্রেপ্তার হবে না। রোজ রোজ আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে, এখন সব কিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশনের কাছে কিছুই নাই। এটা দন্তবিহীন একটি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের একেবারে শুধু তল্পিবাহকই নয়, সরকারের একটি অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে এসেছি, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, সরকার ও এই নির্বাচন কমিশন এক ও অভিন্ন। তারা এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সরকারের নিযুক্ত একজন ডিসি, একজন এসপি, উপজেলা পর্যায়ে একজন টিএনও বা একজন ওসিকে পরিবর্তন করে নাই। তাহলে এই সরকারের নিযুক্ত এবং অনুগত যেসব কর্মকর্তা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তাঁরাই এ প্রক্রিয়ায় এখনো বলবৎ আছেন। আমরা সব সময় শুনে এসেছিলাম তফসিল ঘোষণার পরে সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধিনে আসবে। আজকে সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’

সুষ্ঠু ভোট না হলে বাংলাদেশ আগামীতে ‘একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির আহমেদ আজম খান, আতাউর রহমান ঢালী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবিরা নাজমুল, ফরিদ উদ্দিন, কাজী মনিরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত