প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতীয় নৌপ্রধানের হুঁশিয়ারি
ভারত মহাসাগরে চীনকে ঠেকাতে প্রস্তুত ভারত

প্রথম আলো : নৌশক্তিতে চীনকে ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। অন্তত ভারত মহাসাগরে চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে দেশটি। ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি এ-ও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নৌশক্তির দিক থেকে সবচেয়ে দ্রুত উন্নতি করেছে চীন এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেই চীনা নৌবাহিনী অন্যতম শক্তিশালী।

ভারতীয় সাময়িকী ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির নৌবাহিনী প্রধান সুনীল লানবা এই কথা বলেছেন। সুনীল বলেন, বিশ্বের অন্যান্য এলাকা বাদ দিলেও ভারত মহাসাগর এলাকায় দেশটি যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। সেখানে মোতায়েন আছে চীনের সাবমেরিন। তবে সেগুলোর গতিবিধি জানা আছে ভারতের নৌবাহিনীর। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বোয়িংয়ের পিএইট-ওয়ান নামের পেট্রল উড়োজাহাজ। এ ধরনের উড়োজাহাজ আরও বেশি করে ব্যবহার করতে চাইছে ভারত। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও ১২টি উড়োজাহাজ কিনতে চায় দেশটি।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে জার্মানি, ভারত, স্পেন, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য সম্মিলিতভাবে যতগুলো যুদ্ধজাহাজ চালু করেছে, একা চীনই তার চেয়ে বেশি যুদ্ধজাহাজ পানিতে ভাসিয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে নৌশক্তিতে যোজন যোজন এগিয়ে গেছে চীন। ভারতের নৌবাহিনী প্রধান সুনীল লানবা বলেন, গত চার-পাঁচ বছরে ৮০টি নতুন যুদ্ধজাহাজ চালু করেছে চীন। প্রতি বছর ১২ থেকে ১৮টি করে যুদ্ধজাহাজ পানিতে ভাসাচ্ছে তারা। গত ১০০ বছরে অন্য কোনো দেশ এই হারে নৌশক্তি বাড়ায়নি। এমনকি দুই বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এমন চিত্র দেখা যায়নি।

২০১৬ সালে নৌবাহিনীর প্রধান হন অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, ‘চীনের অর্থনীতি আমাদের চেয়ে ছয় গুণ বড়। তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট আমাদের পাঁচ গুণ। নৌশক্তি বৃদ্ধি করতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছে দেশটি। ভারত মহাসাগরে আমরা চীনের মোকাবিলা করতে পারব। কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগরে পাশার দান উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’ভারত বলছে, ইদানীং দেশটির কাছে দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্ব বেড়েছে। এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে ভারতীয় সরকার। অন্যদিকে চীন এরই মধ্যে ভারত মহাসাগর এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য গত ১০ বছরে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে আটটি সাবমেরিন মোতায়েন করেছে চীনা সরকার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর নৌবাহিনী। তাই দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে সামরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে চীন। এ জন্যই দেশটির রণনীতি এখন সাগরমুখী। তবে দক্ষিণ চীন সাগরের পাশাপাশি ভারত মহাসাগরেও নজর আছে চীনের। এ কারণে পর্যায়ক্রমে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে সি চিন পিংয়ের সরকার। আর এই অঞ্চলে চীনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলো ভারত।

ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান সুনীল লানবা বলেছেন, বর্তমানে একাধিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার কেনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ভারত। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ ধরনের ২৪টি হেলিকপ্টার কেনার কথা চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কেনা হবে ১১১টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার। আগামী দু-তিন বছরের মধ্যেই এসব সামরিক কেনাকাটা চূড়ান্ত হবে বলে আশা করছেন সুনীল।

তবে শুধু নৌযান কেনা নয়, নির্মাণের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছে দেশটি। এ জন্য ৩০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনীল লানবা। তিনি জানান, বর্তমানে এমন সাবমেরিনের নকশা তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিজেদের তৈরি পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন পানিতে ভাসানোর ভাবনা আছে দেশটির।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত