প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ হাসিনা দলীয় পরিচয় নয়, পরিচালক আমজাদ হোসেনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন, এমন উদারতা একজন প্রধানন্ত্রীকেই মানায়

ফরিদ কবির : সরকার লেখক-অভিনেতা-পরিচালক আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তার দুই সন্তানকে ডেকে এ দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনাটি একটা কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। শুনেছি, আমজাদ হোসেন বিএনপি সমর্থক। কিন্তু শেখ হাসিনা লেখক-অভিনেতা-পরিচালক আমজাদ হোসেনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন, আমজাদ হোসেনের দলীয় পরিচয়টিকে নয়। আর, এমন উদারতা, এমন কাজ তো একজন প্রধানমন্ত্রীকেই মানায়।

কারণ প্রধানমন্ত্রী কোনো দলের নন, তিনি দেশের সকলের প্রধানমন্ত্রী, এটা তিনি মনে না রাখলে চলবে কেন? যদিও আমাদের দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা দলীয় লোকদের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতেই পছন্দ করেন! আমরা দেখেছি, এরশাদের বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে কবি শামসুর রাহমানকে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে (নামমাত্র প্রধান সম্পাদক) সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। বিএনপি আমলেও আওয়ামীপন্থী লেখক-কবি-শিল্পীদের অনেককেই নানাভাবে নাজেহাল করা হয়েছিলো! আমার খুবই ভালো লাগবে কবি আল মাহমুদেরও দলীয় পরিচয় না খুঁজে প্রধানমন্ত্রী যদি তারও চিকিৎসার ভার নেন।

লেখক-শিল্পীরা সব সময় সঠিক কাজটি করবেন, সেটা প্রত্যাশিত হলেও তা সব সময় দেখা যায় না। মানুষ নানা বিচিত্র কারণে কোনো বিশেষ দল বা মতকে সমর্থন করেন। নানা ভুল পথ বেছে নেন। এজরা পাউন্ডও নাৎসিদের সমর্থন করেছিলেন! কিন্তু তাতে তার সৃষ্টি, তার কবিতা খারিজ হয়ে যায় না। রাজনৈতিক কারণে তাই প্রধানমন্ত্রীর এ ভূমিকা খুবই অর্থবহ, গুরুত্বপূর্ণও। কিন্তু আমার মনে হয় কাগজগুলো এ বিষয়টি বোঝেইনি!

একইভাবে, আমজাদ হোসেনের পরিচয় কেবলই সিনেমার অভিনেতা বা পরিচালক নন। তিনি একাধারে একজন ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গীতিকারও। কোনো সন্দেহ নেই, তিনি এদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাছাড়া, তিনি এখন গুরুতর অসুস্থও। অথচ আমাদের কাগজগুলো প্রধানমন্ত্রীর এ সংবাদটি কিনা ছেপেছে বিনোদন পাতায়! আমজাদ হোসেনের অসুস্থতা আর যাই হোক, বিনোদনের বিষয় হতে পারে না! এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের পত্রিকাগুলো এখনো ঠিক সাবালক হয়ে ওঠেনি! কোনোদিন হবে সেটাও মনে হয় না।

লেখক : কবি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ