প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পেয়ারা-কাঁচাকলার ভর্তায় চলে সংসার

মাহফুজ নান্টু:  মামা ঝাল বেশী দেমু না কম,এমন প্রশ্নের  উত্তর আসে পরিমানমত ঝাল আর লবন দিয়া বানাইয়া দেন। এবার কাঁচা সবুজ পেয়ারার স্তুপ থেকে একটি ছুরি দিয়ে কুচি করে কেটে পেয়ারার টুকরাগুলো স্টিলের মগে নিয়ে তাতে পরিমানমত বিট লবন,তেতুলের টক,কাসুন্দি, ধনেপাতা মিলিয়ে কাঠি দিয়ে নেড়ে তারপর পরিবেশন করা হয় ছোট প্লেটে। তবে পরিবেশেনের আগে ক্রেতাদের জিজ্ঞেস করা হয় এইহানে খাইবেন না লইয়া যাইবেন।

পুলিশলাইন ফৌজদারি সড়কের পাশে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার। কারগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামি  কিংবা জামিনের অপেক্ষায় থাকা  অপরাধীর স্বজনরা যখন অপেক্ষা করেন। আর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সেই সব অপেক্ষমানদের  কাছে  পেয়ারা- কাঁচাকলার ভর্তা বিক্রি করেন কুমিল্লা লাকসামের রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন। ভর্তা বিক্রির টাকায়  স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ভালোই আছেন। দেলোয়ার হোসেনের এক মেয়ে দু ছেলে। সবাই পড়াশোনা করে।

স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী পরিবার পরিচালনা করে। সপ্তাহন্তে দেলোয়ার বাড়ি যায়। স্ত্রী সন্তানদের সাথে রাত কাটিয়ে চলে ফের চলে আসেন রোজগারের আশায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে।

কথা ভর্তা বিক্রেতা দেলোয়ারের সাথে। তিনি জানান,দীর্ঘ বছর ধরে কারাগারের সামনে পেয়ারা- কাঁচা কলার ভর্তা বিক্রি করেন। গড়ে তিন/ চার হাজার টাকার ভর্তা বিক্রি করতে পারেন। তাতে খরচ বাদ দিয়ে হাজর খানেক টাকা মুনাফা হয়। দেলোয়ার জানান, তিনি নগরীর ফৌজদারীর এলাকার মফিজাবাদ কলোনিতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন।

ভর্তা বিক্রেতা  দেলোয়ারের সাথে কথা বলার মাঝে দু’যুবক আসেন। নয়ন ও তার বন্ধু হাবিব। তাদের এক বড় ভাই কারাগারের ভেতর আছেন। বড় ভাইকে দেখতে কারাগারে এসেছেন। গত চার/ পাঁচমাস ধরে তারা নিয়ম করে কারাগারে বড় ভাইকে দেখতে আসেন। আর কারাগারে আসলেই দেলোয়ারের হাতে বানানো ভর্তা খাওয়া চাই।  তেতুলের  টক ঝাল, কাসুন্দী ধনে পাতা দিয়ে পেয়ারা কাঁচাকলার ভর্তা আসলেই খুব মজার বলে মুখের ভেতর পুরে তেঁতুলের টক ঝাল আর কাসুন্দিও ঝাঝ দিয়ে বানানো ভর্তার এক টুকরো পেয়ারা।

দেলোয়ার জানান, তার ভালো লাগার কথা। মাঝে মাঝে যখন কোন ক্রেতা এসে পরিবারের জন্য ভর্তা পার্সেল করে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্ডাও করেন ওই সময়টা খুব ভালো লাগে। তখন মনে হয় আমার বানানো ভর্তা বোধ  হয় আসলেই ভালো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ