প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খেজুরের রস সংগ্রহে গাছিদের ব্যস্ত সময়পার

মাহফুজ নান্টু: এখন অগ্রহায়ন মাস। চারদিকে নবান্ন উৎসবের আমেজ। নগর জীবনে এখনো ঠিকমতো শীত জেকে না বসলেও গ্রামে শেষ বিকেলে হাল্কা কুয়াশার সাথে সন্ধ্যা নামে। আর সন্ধ্যার পরে উত্তরের হিমেল হাওয়ার সাথে বাড়তে থাকে কুয়াশার আস্তরণ। আর রাতে মনে হয় প্রকৃতিকে যেন সাদা চাদরে মুড়িয়ে রেখেছে কুয়াশার। পৌষ-মাঘ শীতকাল হলেও অগ্রহায়নেই এখন প্রকৃতিতে বিরাজ করছে শীত। অগ্রাহায়নের এই শীতে নবান্ন উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের রস। আর এ কারনেই গ্রামে বা শহরতলীতে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা।

গত দিন দশেক ধরে কুমিল্লার গোমতীনদীর চরে, বেড়িবাঁধের পাশে, আদর্শ সদর উপজেলার তেলকুপি, ইলাশপুর, সুবর্ণপুর, বুড়িচংয়ের রাজাপুর, বাকশিমুল, চান্দিনার কুটুম্বপুর এলাকায় রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছের মাথায় দারালো দা, লোহর রড, রশি নিয়ে বিশেষ কৌশলে আগাছা পরিস্কার করতে দেখা যায় গাছিদের। ইতিমধ্য অনেক গাছি আগাছা পরিস্কার করে তাতে রশি দিয়ে মাটির হাড়ি বসিয়েছেন। বিকেলে গাছের মাথায় মাটির পাতিল বসিয়ে দিলে, সন্ধ্যায়-গভীর রাতে এবং সকালে রসে ভওে থাকা পাতিল নামিয়ে এনে জমা করেন তাজা রস। তারপর চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন গাছিরা।

চাঁনপুর বাগড়া সড়কের আদর্শ সদর উপজেলার ইলাশপুর এলাকায় খেজুর রস গাছের মাথায় মাটির পাতিল বেঁধে দিয়েছেন গাছি আরিফ মিয়া। তিনি জানান, কুয়াশা বেশি থাকলে রসও বেশি পরে। ১৫টির মত খেজুর গাছে পাতিল বসিয়েছেন গাছি আরিফ। তিনি জানান, এখন সারা রাতে এক পাতিল রস পাওয়া যায়। শীত বেশি পড়লে রসও বেশি পাওয়া যাবে।

এদিকে মৌসুমের শুরু বলে কাঁচা রসের দাম একটু বেশি। কেজি ৪০/৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গাছি আরিফ জানান, রসের চাহিদা অনেক। তবে আগের মত গাছ নেই বলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী রস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। আগে খেজুরগাছ ছিলো বেশি, রসও পর্যাপ্ত সরবরাহ করা যেত। বর্তমানে গাছপালা কেটে বসতবাড়ি তৈরি করার ফলে গাছ কমে গেছে। এখন খেজুর গাছ লাগানোর মত মানুষের মাঝে উৎসাহ দেখি না।

গোমতীনদীর বাঁধের ধারে সুবর্ণপুর এলাকার দেখা যায় বেশ কয়েকজন গাছি খেজুর গাছের আগায় জঞ্জাল পরিষ্কার করছেন। সেখানে দাড়িয়ে গাছিদেও নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মানুষ আফসার উদ্দীন। তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায়-বাড়িরপাশে ক্ষেতের আইলে অনেক খেজুর গাছ দেখা যেত। সেসব খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা রস খাওয়া হতো। এছাড়াও বাড়তি রস আগুনে জ্বালিয়ে ঝোলাগুড় তৈরি হতো। পরে নতুন ধানের চালের ভাপা চিতই পিঠা আর ঝোলাগুড় দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করা হত। পাশাপাশি শীতের দু মাস পরিবার পরিজনদেরও সকালের খাবার খাওয়া হতো।

তবে আগের মত এখন আর খেজুর গাছ নেই, খেজুরের রসও এখন সর্বত্র পাওয়া যায় না। আফসোসের স্বরে আফসার উদ্দিন বলেন, এখন আগের মত খেজুর গাছও নেই রসও খেতে পারি না। তবে কথাগুলো বলার মাঝে আফসার উদ্দিনের চোখেমুখে একটা বিষয় স্পষ্টতই ফুটে উঠেছিলে অতীত হয়ে যাওয়া দিনগুলোর। কারণ নব্বইয়ের দশকে গ্রাম বাংলায় অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হলেও মূলত পৌষ-মাঘ এ দুই মাসে গ্রামের ঘরে ঘরে যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করতো সেই অভাববোধটা যেন আরো বেড়ে গেলো।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ