প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর আদায়ে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের খুঁজতে এনবিআর’এর চিঠি

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) ও পুলিশে’কে দেশে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করতে চিঠি দিয়েছে। এনবিআর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে সঠিকভাবে কর আদায়ের জন্যেই এ ধরনের চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে এনবিআর। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

চিঠিতে এনবিআর একটি টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেছে এধরনের যৌথ অভিযানে ডেপুটি সেক্রেটারি অথবা পুলিশের এসপি পর্যায়ের প্রতিনিধি রাখতে হবে। বিস্তারিত তথ্য বিনিময়ের জন্যে এনবিআর বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, এনএসআই’এর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছে। অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের তথ্য পুলিশের কাছ থেকে পাওয়ার পর তাদের কর আদায়ের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই সঙ্গে এনবিআর একটি সফটওয়্যার তৈরির পরিকল্পনা করেছে যেখানে এসব বিদেশি নাগরিদের বাংলাদেশে প্রবেশ, চলে যাওয়া, আবাসস্থল ও তারা কতবার বাংলাদেশে ভ্রমণ করেছেন বা অবস্থান করছেন এধরনের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। বর্তমানে দেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নেই। ২০১৬ সালে এধরনের উদ্যোগ এনবিআর নিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগও সফল হয়নি।

এদিকে এনবিআর’এর আয়কর শাখা সরেজমিনে অন্তত ৩০টি কোম্পানির হদিস পেয়েছেন যেখানে বিদেশি নাগরিকরা কর্মরত আছেন। তবে এধরনের পরিদর্শন খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে কারণ পূর্বেই বিষয়টি কোম্পানিগুলোকে জানানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি কর কর্মকর্তারা বিমান ও স্থলবন্দরগুলোতে কর বুথ স্থাপন করেছিলেন কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি। এছাড়া বিমান বা স্থলবন্দরগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের আটকানোর বিষয়টিকে এনবিআর’এর তরফ থেকে হয়রানিমূলক মনে করা হয় এবং তার যেসব কোম্পানিতে কাজ করেন, প্রতিষ্টানগুলোর বরং দায়িত্ব তাদের বেতন থেকে কর কেটে নেওয়া। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিদেশি নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করলেও বেশিরভাগই কর ফাঁকি দেয়ার জন্যে টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এদেশে আসেন এবং অবৈধভাবে কাজ করতে থাকেন। এজন্যে নিয়োগদাতা কোম্পানিগুলোই দায়ী বলে মনে করছে এনবিআর।

১৯৮৪ সালের ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের বেতনের ৩০ শতাংশ কর দেয়ার কথা। বিদেশি নাগরিকদের কোনো কর মওকুফের সুযোগ নেই। এনবিআর’এর তথ্য অনুযায়ী ১৪ হাজার বিদেশি নাগরিক কর দিচ্ছেন। তবে কর কর্মকর্তাদের হিসেবে এ সংখ্যা ৫০ হাজার হওয়ার কথা। এর আগে এনবিআর বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করলেও করকর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে যেয়ে আইনী জটিলতায় বিভিন্ন বাধার মুখে পড়েন। এজন্যে আইনের সংস্কারও প্রয়োজন মনে করছে এনবিআর। আইনে কর দাতার তথ্য গোপন রাখার বিধি রয়েছে এবং তা প্রকাশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে বলেন, দেশে ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছে। যাদের মধ্যে ৬৭ হাজার ৮৫৩ জন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়া সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)’র এক সমীক্ষায় পোশাক কারখানাগুলোর ১৬ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

(ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে এই প্রতিবেদনটি করেছেন দৌলত আক্তার মালা, ভাষান্তর রাশিদ রিয়াজ।)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ