Skip to main content

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বিহারী নেতা ফাক্কু

মতিনুজ্জামান মিটু: জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবীর বিহারী নেতা মো. সাদাত খান ফাক্কু প্রার্থী হচ্ছেন। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্টের এক ইমেইল বার্তায় এ খবর দিয়ে বলা হয়েছে, সদ্য ঘোষিত ৩৫ জনের প্রার্থী তালিকায় ফাক্কুর নাম রেখেছে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক দল নাগরিক ঐক্য । পল্লবী ও রুপনগর থানার ওয়ার্ড নং ২,৩,৫ ও ৬ নিয়ে গঠিত ঢাকা ১৬ আসন। ঢাকা-১৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২,২৩,৫১৮। এই এলাকার ২,৩ ও ৫ ওয়ার্ডে বিহারী ক্যাম্পে ভোটার সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ হাজারের মতো। ক্যাম্পের বাইরেও অনেক বিহারী রয়েছেন। আওয়ামী লীগ যদি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে কালশী ট্রাজেডির কারণে বিহারী ভোটে বিহারী নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু এগিয়ে থাকতে পারেন। এদিকে প্রথম বারের মতো এক বিহারী নেতার নাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক জোটের প্রার্থী তালিকায় থাকায় বিহারী ক্যাম্পগুলোতে উৎসবমুখর পরবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন বিহারীদের এই বিশাল ভোট ব্যাংককে কেন্দ্র করেই এই আসনে সাদাকাত খান ফাক্কুকে প্রার্থী তালিকায় রেখেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এই আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া সহ বেশ কয়েকজন বিএনপি দলের মনোনয়ন কিনেছেন। এ আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী ও বিহারীদের অন্যতম নেতা মো. ফাক্কু ২০০৭ সালে সারা দেশে বসবাসরত বিহারীদের ভোটাধিকার চেয়ে হাইকোর্টে রীট করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১৮ মে হাইকোর্টের এক রায়ের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পায় উর্দুভাষী বাংলাদেশীরা। সে মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বিহারীদের পক্ষে শুনানী করেছিলেন। এছাড়াও সাদাকাত খান ফাক্কু বিহারীদের শীর্ষ সংগঠন উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ১৯৯৯ সাল থেকে। বিহারী ক্যাম্প উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মামলা করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিহারী ক্যাম্পগুলোকে উচ্ছেদের আওতার বাইরে রেখেছেন তিনি। পাশাপাশী বিহারী জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন সারা জীবন। ২০১২ সালে তিনি নাগরিক ঐক্যে যোগ দেন। তিনি নাগরিক ঐক্য মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন কয়েক বছর আগে। চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর মো. সাদাকাত খান ফাক্কুকে ঢাকা মহানগর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির সদস্য করেছে নাগরিক ঐক্য। এ বিষয়ে উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক শাহীদ আলী বাবলু বলেন, ঢাকা-১৬ আসনে আমাদের জনপ্রিয়তা বেশী । কারণ পল্লবীর ৩টি ওয়ার্ডে ৩৯ টি বিহারী ক্যাম্প রয়েছে । এই ক্যম্পগুলোতে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশী উর্দুভাষী রয়েছে। এছাড়াও ক্যম্পের বাইরেও অনেক উর্দুভাষী ভোটার রয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট মো. সাদাকাত খান ফাক্কুকে ঢাকা-১৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলে আমাদের জয় সুনিশ্চিত। কারণ মো. সাদাকাত খান এই জনগোষ্ঠীর পরিক্ষিত নেতা। আমাদের জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগকে হাতছাড়া করবে না। ভোটার হওয়ার পর ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য ও জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ১০ ফুট প্রস্থ ও ৮ ফুট দৈর্ঘের রুমে পরিবারের ১০ থেকে ১২ জন মানুষকে ঘুমাতে হয়। তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে উচ্ছেদ আতংকে। তাছাড়া জমি দখলের জন্য হত্যা ও নির্যাতনের শিকারও হয়েছে এই অবেহেলিত জনগোষ্ঠী। ক্যাম্পবাসীর পক্ষে সংসদে কথা বলার মতো কেউ থাকলে একটি পরিবর্তন আসতে পারে। মো. সাদাকাত খান ফাক্কু ২০১৫ সালে ডিএনসিসির নির্বাচনে ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। ৩ নং ওয়ার্ডে বিহারী ভোটার মাত্র ১০ হাজারের মতো। সে নির্বাচনে তিনি ৩২০০ ভোট পেয়েছিলেন এবং ১২০০ ভোট বাতিল করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি বলেও জানান তিনি। যার কারণে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক ৭ হাজার ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বিএনপির কর্মীরা মনে করে বিহারী নেতা সাদাকাত খান ফাক্কু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন না করলে বিএনপির মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী আলী ইমাম আসাদ জয়লাভ করতে পারতেন।

অন্যান্য সংবাদ