প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুমিনুলের সেঞ্চুরি, আলালের অভিযোগের ডালি, বাঘা সিদ্দিকীর হাস্যকর হুঙ্কার

প্রভাষ আমিন: ১. দেশজুড়ে এখন নির্বাচনী জোয়ার বইছে। এই জোয়ারে হঠাৎ ঢেউ তুললো ক্রিকেট। জিম্বাবুয়ে সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফর শুরু হয়ে গেছে। সফরে মোট ম্যাচ ৭টি; দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে, দুটি টি-২০। সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রেখেছেন পুচকে মুমিনুল হক। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করেছেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। তিনি ছাড়া তামিম ইকবালেরই কেবল আটটি সেঞ্চুরি আছে। তবে তামিমের ৮ সেঞ্চুরি ৫৭ টেস্টে, আর মুমিনুলের ৩১ টেস্টে। এ বছর টেস্টে সবচেয়ে বেশি, ৪টি সেঞ্চুরি মুমিনুলের। ৪টি সেঞ্চুরি আছে বিরাট কোহলিরও। তবে কোহলির ৪ সেঞ্চুরি ১৮ ইনিংসে, আর মুমিনুল করেছেন ১৩ ইনিংসে। মুমিনুল টেস্টে একের পর এক সেঞ্চুরি করেন আর তার ভক্তদের আফসোস বাড়ে, নির্বাচকরা কি লজ্জা পান? মুমিনুল হকের গায়ে ‘স্পেশালিস্ট টেস্ট ব্যাটসম্যান’এর তকমা আটা। তবে এই তকমাটা মুমিনুল হকের জন্য আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ। ওয়ানডে দল করার সময় মুমিনুল হক নির্বাচকদের মাথায়ই থাকেন না। দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান বছরে একটা দুইটা টেস্ট খেলার সুযোগ পান। হঠাৎ নেমে ছন্দ পেতে পেতেই খেলা শেষ। ওয়ানডেতে চলে না, যেই ব্যাটসম্যান, তার স্ট্রাইক রেট কত জানেন? ৭৪.৩৬। আচ্ছা চলুন বাকি ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট দেখে আসি- তামিম (৭৮.২২), ইমরুল (৭১.১৫), সাকিব (৮০.৯২), মুশফিক (৭৭.৬০), মাহমুদুল্লাহ (৭৬.২৫)। এবার বলুন তো, মুমিনুল কি একেবারে অচল মাল? টেকনিক্যালি সাউন্ড হওয়াটা কি তার অপরাধ? মুমিনুল একেকটি টেস্ট সেঞ্চুরি করেন, আর এই প্রশ্নগুলো আরো বড় হয়।

২. ক্রিকেট নিয়ে মানুষের আগ্রহ যতই থাকুক, নির্বাচনের চেয়ে বেশি নয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে প্রস্তুতি, চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের খেলাও। বিএনপি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাতকারের সময় শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একে গৃহযুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এতে উসকানির কী আছে। তারা ১০ বছর পর নির্বাচনে যাচ্ছে, তারা ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে পারবে না? আপনারা যদি কারচুপি করেন, বিএনপি কর্মীরা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে? এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ভোটের দিন সরকারি দল কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা, তা নিয়েই সন্দেহ আছে। এই বীর উত্তমের কাছে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা, বাংলাদেশের একটি বড় দল ভোটের দিন কেন্দ্রে যেতে পারবে না কেন? জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কি কেন্দ্র দখল করে রাখবে? কদিন আগেও আওয়ামী লীগের সাথে জোট করতে ব্যাকুল বাঘা সিদ্দিকীর এই হঠাৎ হুঙ্কার শুনলে হাসি পায়।

৩. বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে যখন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হচ্ছিল, তখনই অভিযোগের বহর নিয়ে কমিশনে হাজির বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিএনপি জনপ্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চায়। তবে বিএনপি মাত্র ৯২ জনকে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেকে চিহ্নিত করেছে। বাকিরা কি তবে বিএনপি সমর্থক? বিএনপি চাইলেই করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই বিএনপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে। কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএনপিও জানে তাদের সব দাবি মানার মত নয়, মানা হবেও না। তবু দাবি করা হয়, চাপে রাখার জন্য। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পুলিশের প্রতি নিরপেক্ষ থাকার জন্য অাহবান না জানিয়ে আদেশ দিতে বলেছেন। আদেশ দিতে কোমরের জোর লাগে। আশা করি নির্বাচন কমিশন দ্রুতই সে সক্ষমতা অর্জন করবে।