প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের হাওয়া, মানুষের চাওয়া

বিভুরঞ্জন সরকার : নির্বাচন নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে মানুষের মধ্যে। কেউ বলছেন, এবার ভোটের হাওয়া গরম। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দেবে বিএনপি। বিএনপি মানে বিএনপি একা না, সঙ্গে কামাল হোসেন এন্ড গং। আওয়ামী লীগ মানেও আওয়ামী লীগ একা না, সঙ্গে ১৪ দল, এরশাদ, বদরুদ্দোজা চৌধুরী এন্ড গং। আওয়ামী লীগকে এতোদিন যারা ভোটের মাঠে অনেক এগিয়ে রেখেছিলেন, তারা এখন কেমন যেন দোনোমোনো করছেন। বলছেন, বিএনপি ঠিকই আওয়ামী লীগ থেকে পিছিয়ে আছে, তবে যতোটা পেছনে মনে করা হচ্ছিলো ততোটা পিছে নয়। কামাল হোসেনের ওপর ভর করে বিএনপি যে হাই জাম্প দিয়েছে, তা তাদের জন্য অতি চমৎকার ফল এনে দিয়েছে। এখন মাথা গরম না করে তারা যদি ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের জন্য হুমকি হয়েই থাকবে।

আবার আওয়ামী লীগের পক্ষের লোকেরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে; আরো পরিষ্কার করে বললে, শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে হারিয়ে দেয়ার অবস্থা বিএনপি এখনো অর্জন করতে পারেনি, এবার পারার সম্ভাবনাও নেই। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশ বলে না যে শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা ক্ষতির কারণ হবে । খুব সহজ জয় না পেলেও জয়ের জন্য আওয়ামী লীগকে খুব বেশি ঘামও ঝরাতে হবে না বলেই মনে করা হয়। বিরোধীদের প্রচারণার মূল শক্তি হলো গুজব। গুজবের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সংগঠিত প্রচারণা শুরু হলে গুমোট ভাব কেটে যাবে।

আওয়ামী লীগ তার শাসন আমলে দেশের যে উন্নতি করেছে, মানুষ তার প্রতিদান অবশ্যই দেবে। আমাদের দেশে ওপর তলার মানুষদের মধ্যে বেঈমানি বা নীতিহীনতার প্রবণতা বেশি হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো নুন খেয়ে গুণ গাওয়ার বিষয়টি উবে যায়নি। আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি ভালো এটা প্রমাণের জন্য আরো অনেক কিছু করতে হবে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটা মানুষের কাছে স্পষ্ট। শেখ হাসিনাই যে সেক্ষেত্রে পরের পাঁচ বছরের জন্যও জাতিকে নেতৃত্ব দেবেন, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হচ্ছে না। শেখ হাসিনা মানুষ হিসেবে কেমন, কেমন তার নেতৃত্বের যোগ্যতা, দক্ষতা সেটাও কারো অজানা নয়। তার শ্রম দেওয়ার ক্ষমতা, তার মেধা ও দূরদর্শিতা নিয়ে তার শত্রুদের মনেও সন্দেহ নেই। তিনি পারেন না সেটা বলার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে শুধু অর্বাচীনেরা।

অন্যদিকে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কে? খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, নাকি ড. কামাল হোসেন? দুর্নীতি মামলায় দ-িত খালেদা-তারেককে বিএনপির সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিলেও সাধারণ মানুষ কি তাতে উৎসাহিত বোধ করবেন? যারা সুশাসনের কথা বলে মুখে ফেনা তুলছেন তারা কী বলবেন তখন? সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকরা ক্ষমতায় আসবে, সেটা পশ্চিমা বিশ্বই বা কীভাবে নেবে? যারা গ্রেনেড হামলা মামলার সঙ্গে জড়িত তারা কেমন গণতন্ত্র উপহার দেবেন? ড. কামাল হোসেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু? তাকে যারা মাঠে নামিয়েছেন তারা নিশ্চয়ই তাকে সাইডলাইনের প্লেয়ার ভাবেননি। কিন্তু নিজেই এখন তিনি নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নেও তিনি গররাজি। তাহলে কি দাঁড়াবে?

কেউ আবার বলছেন, গাছে ক্াঁঠাল আর গোঁফে তেল দেয়ার কোনো দরকার নেই। সময়ই নির্ধারণ করবে কী হবে! বসে বসে বা চেয়ে চেয়ে পরাজয় দেখার মতো দল আওয়ামী লীগ নয়। নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হবে মনোনয়ন ফাইনাল হওয়ার পর। মনোনয়ন নিয়ে বাজারে কতো রকম গুজব। আওয়ামী লীগও যেমন প্রার্থী বাছাই নিয়ে পেরেশানিতে আছে, তেমনি বিএনপিও স্বস্তিতে নেই। চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা ঘোষণার আগে বলা যাবে না, কার বিরুদ্ধে কে লড়বেন? আর কার বিরুদ্ধে কে লড়বেন, সেটাও নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কারো কারো ধারণা, শেষ পর্যন্ত দেশে নির্বাচনই হবে না। এটা একেবারেই একটি চরম মত। নির্বাচন না হলে কি হবে? গণতান্ত্রিক ধারা কীভাবে অব্যাহত থাকবে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব না দিয়ে রহস্যবাদীরা বলেন, আরে অপেক্ষা করেন আর দেখেন, কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়! নির্বাচন না হওয়ার গুজবটা খুব ভালো লক্ষণ নয়। রাজনীতিতে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা দেশের মানুষের কাম্য নয়। আন্দোলন, জ্বালাও-পোড়াও এসবও দেশের মানুষ দেখতে চায় না। মানুষের প্রত্যাশা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। ভোটের হাওয়া জোরে বইতে শুরু করুক, সেই হাওয়ায় উড়ে যাক অনিশ্চয়তার কালো মেঘ, এখন এর বেশি কিছু মানুষের চাওয়া নেই। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত