প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইভিএমে কারচুপি ও ফল বদলে দেওয়া সম্ভব: ঐক্যফ্রন্ট

অনলাইন ডেস্ক : ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপি এবং ফল বদলে দেওয়া সম্ভব বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’- শিরোনামে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দলের মাধ্যমে ইভিএমের সম্ভাব্য জালিয়াতির চিত্র তুলে ধরে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, ইভিএম ব্যবহার সংবিধানবিরোধী। যারা সংবিধান লঙ্ঘন করবেন, তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ্‌ চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার। ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সমমনা বুদ্ধিজীবীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা স্পষ্ট যে জনগণ ইভিএম চায় না। জনগণ নিজের ভোট নিজে দিতে চায় এবং ফলাফলে জনমতের সঠিক রায় দেখতে চায়।

তিনি বলেন, ‘এখনও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গ্রেফতার, নির্যাতন করে সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হবে না, ভোটযুদ্ধে আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকব।’

ড. মঈন খান বলেন, ইভিএম কোনো উচ্চপ্রযুক্তি নয়, এটা খুবই সাধারণ প্রযুক্তি। এর খরচও কম। আর এর মাধ্যমে শুধু একটা তার বদলে দিয়ে খুব সহজে ভোটের ফলাফলে কারচুপি করা যায়। এ কারণেই বিশ্বের ৯০ শতাংশ দেশে ইভিএম বাতিল করা হয়েছে। এই বাতিল প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো যুক্তি নেই।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংবিধানে আছে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কেউ এক হাতে ভোট দেবে, আর কেউ দু’হাতে ভোট দেবে এটা হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন ইভিএম নিয়ে এসে ভোট প্রদানের পদ্ধতিতে দু’ধরনের পদ্ধতি চালু করছে, যা সংবিধানবিরোধী।

আ স ম আবদুর রব সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, ইভিএম ব্যবহার সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন। যারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হবে। তাদের জেলে যেতে হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যন্ত্র মানুষ তৈরি করে, এ কারণে মানুষই যন্ত্রের মাধ্যমে জালিয়াতিও করতে পারে। তাই যন্ত্র নয়, ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট হতে হবে। কোনো ছলচাতুরীতে কাজ হবে না। নির্বাচনকে জনগণ আন্দোলন হিসেবে নিয়েছে এবং জনগণের বিজয় হবে, ঐক্যফ্রন্টের বিপুল বিজয় নিশ্চিত হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়েই সরকারের প্রথম পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। এখন ব্যালটের মাধ্যমে চূড়ান্ত পরাজয় হবে। এটা জেনেই সরকার ইভিএমসহ ভোট কারচুপির যত পদ্ধতি আছে তা প্রয়োগের চেষ্টা করছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ে সরকার গঠন হলে শান্তি বজায় থাকবে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে অশান্তি হবে এবং এর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর সামনে সরকারের সব চালাকি বিলীন হয়ে যাবে।

ইভিএমে কারচুপির প্রামাণ্যচিত্র: ইভিএমের মাধ্যমে কীভাবে কারচুপি করা সম্ভব তা তুলে ধরেন বিএনপি সমর্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাবের সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। এতে ছিলেন ফয়সাল আলীম, আশরাফুদ্দিন বকুল, হাসিন আহমেদ, তাবিথ আউয়াল, তানবিরুল ইসলাম তমাল, মিজানুর রহমান এবং কে এম আসাদুজ্জামান।

প্রামাণ্যচিত্রে নির্বাচন কমিশনের আদলে একটি ইভিএম মেশিন তৈরি করে সেখানে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি দেখানো হয়। এ পদ্ধতিতে একজন ভোটারের দেওয়া ভোট কীভাবে অন্য প্রার্থীর পক্ষে পাল্টে দেওয়া যায় তার নেপথ্যের কারিগরি দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় বলা হয়, ইভিএমের মূল প্রোগ্রামিং পরিবর্তন করা যায়। এর মাধ্যমে খুব সহজে ভোটের ফল পরিবর্তন করা সম্ভব। পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল মুদ্রণের সময় তা আমূল পরিবর্তন করাও সম্ভব।

এতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহার ছাড়াও ব্লুটুথ, ওয়াইফাই ডিরেক্ট বা এ জাতীয় তারবিহীন প্রযুক্তির মাধ্যমেও ভোটগ্রহণ চলাকালেই ইভিএম হ্যাক করে ভোটের ফল বদলে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারেরও ভোটারের পছন্দের প্রার্থীর ভোট অন্য প্রার্থীর ভোটে যোগ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রামাণ্যচিত্রে ভারতের ইভিএম কেনার তথ্য দিয়ে বলা হয়, ভারতে প্রতিটি ইভিএম কেনা হয়েছিল ১৭ হাজার রুপি মূল্যে, এই হিসাবে বাংলাদেশে এর মূল্য হওয়া উচিত ছিল ২১ হাজার ২৫০ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন প্রতিটি ইভিএমের মূল্য নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ টাকা। সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত