প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

রাইজিং বিডি : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্খীতা প্রত্যাশী রাষ্ট্রপতির ছেলের নেতৃত্বে বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগের সভা ও আপ্যায়ন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে চিঠির মাধ্যমে এই দাবি জানায়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত চিঠিটি সচিব গ্রহণ করেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য পুলিশের পদস্থ ৭০ জন কর্মকর্তার বদলি চেয়েছে বিএনপি। নির্বাচনে তাদের সব ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখাও দাবি জানিয়েছে দলটি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, যাদের বদলি চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে পুলিশ সুপার, বিশেষ শাখার পুলিশ কর্মকর্তা, ডিআইজি, এডিশনাল ডিআইজি এবং এআইজিদের নাম রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং তার প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব না ঘটে আর যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

আলাল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ছেলে একজন এমপি পদপ্রার্থী। তিনি বঙ্গভবনে তার নির্বাচনী এলাকার লোকজন নিয়ে বসে নির্বাচনী কাজ করছেন। তাদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। যেটি প্রভাব বিস্তারের অন্যতম উদাহরণ।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তা এদের সঙ্গে সব রির্টানিং কর্মকর্তা পুলিশ সুপারদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ১৬ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের বিভাগীয় কমিশনার ও রির্টানিং কর্মকর্তা তার এলাকার অন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এনটিএমসি ও বিটিআরসির কিছু কর্মকর্তা গুলশানে তারেক রহমানের কথোপকথন বন্ধ করে রেখেছেন। এখনও সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ। এটিও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। গ্রেপ্তার এখনও চলছে ব্যাপক হারে। গতকাল রাতেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাড়াও মনোনয়ন বোর্ডের নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া পোস্টার বিলবোর্ড সরানোর যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল সে ব্যাপারে এখনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঢাকা নগরীতে এখনও অসংখ্য নৌকা প্রতীকের বিলবোর্ড, পোস্টার রয়েছে। এমনকি সিটি করপোরেশন ও বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের নামে নৌকা প্রতীকের প্রচার করছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ বার বার তাদের সঙ্গে যোগযোগ করে জানতে চাচ্ছে কে কোন দল করেন। এই তৎপরতা এখনও চলছে।’

তিনি বলেন, ‘খুলনার হরিণঘাটায় কিছু দালিলিক তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নামের তালিকার নামের পাশে লেখা হয়েছে কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি আর জামায়াত করে। তারা যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন তার কপি আমাদের কাছে আছে। মূল কথা মাঠ প্রচণ্ড অসমতল। নির্বাচন কমিশনের কাছে আবারো দাবি জানাই, মাঠ সমতল করার ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার কার্যক্রম বন্ধ করার, পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার, অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। পুলিশকে নিরপেক্ষ আচরণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন যেন নির্দেশনা দেয়।’

সকালে সিইসি একটি বিশেষ বৈঠক করেছে, যেখানে সিইসি আহ্বান করছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা যাতে বাড়ি বাড়ি গিযে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হয়রানি না করেন- এই নির্দেশনায় আপনারা আস্থা রাখতে পারছেন কি না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। এটি তো অনুরোধ বা অনুনয়। কিন্তু উনার তো নির্দেশ দেওয়ার কথা। উনি নির্দেশনা দেবেন। সেই ক্ষমতা তার রয়েছে। সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন আমরা চাই।’

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে পুলিশের পদস্থ ৭০ কর্মকর্তার তালিকাসহ যে চিঠি দিয়েছে বিএনপি তাতে তাদের প্রত্যাহার করা ও নির্বাচনে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়াও প্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তার তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মকর্তাদের বিতর্কিত উল্লেখ করে তাদেরকেও প্রত্যাহার করা ও নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ