প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢালাও অভিযোগে বদলি না করতে ইসির কাছে পুলিশের দাবি

বাংলা ট্রিবিউন : অভিযোগ পেলেই যেন পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা না হয়, নির্বাচন কমিশনকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন এই বাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, নির্বাচনের দায়িত্বপালনকালে বিভিন্ন মহল তাদের বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আসতে পারে। ওইসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যেন তাদের অহেতুক বদলি না করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তারা এ দাবি জানান। অবশ্য কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, কোনও অভিযোগ উঠলেই তারা বদলি বা প্রত্যাহার করবে না। যাচাই করে সত্যতা পেলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা তাদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেন, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত না থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

বৈঠকে কমিশন থেকে বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, তাদের বিষয়ে কমিশনের কোনও বক্তব্য নেই। তবে বিনা কারণে কোনও ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া যাবে না। কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না।

তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম এই বৈঠকে নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো উঠে আসে। এরআগে, রিটার্নি কর্মকর্তাদের ডেকে নির্বাচন বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছিল ইসি। প্রতীক বরাদ্দের পর সমন্বিত একটি আইনশৃঙ্খলা বৈঠক করবে কমিশন। ওই বৈঠকে রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ১৫দিন আগে নামা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ (রেকি) করবেন। তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়জন সদস্য মাঠে নামবেন, তা নির্ধারণ করা হবে।

ওই সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ১৫ ডিসেম্বর মূল কার্যক্রম শুরু করলেও তারা ভোটের আগে ও পরে ১০ দিন মাঠে অবস্থান করবে। এর মধ্যে ভোটের আগে ৭ দিন, ভোটের দিন ও পরে দুই দিন থাকবেন। তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন।

জানা গেছে, বৈঠকে পুলিশের আইজি ইসিকে বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনারা যে দায়িত্ব দেবেন, তা নিরপেক্ষভাবে পুলিশ পালন করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বলেন, নির্বাচনে আমাদের সব বাহিনী তৎপর আছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‌্যাবের টিমগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, ‘নির্বাচনে যেন কোনও অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকবো। তবে নির্বাচন ভণ্ডুল করার জন্য যেন কেউ সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, বেশিরভাগ কর্মকর্তার বক্তব্যে বদলির বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা বলেছেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলে একটি পক্ষ বারবারই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। এসব অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ছাড়া যেন কাউকে বদলি করা না হয়। বৈঠকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ওসিকে বদলির ঘটনায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, বৃস্পতিবার কমিশনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা যখন ঢালাও অভিযোগে বদলি না করার অনুরোধ করছিলেন, ঠিক একইসময় বিএনপির একটি প্রতিনিধি  দল ইসিতে এসে ৩১ জেলার এসপিসহ  পুলিশের ৭০ কর্মকর্তার বদলির দাবি করে চিঠি দেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান ও র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদসহ পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা রয়েছেন।

বৈঠকে একজন পুলিশ সুপার বলেছেন, এই নির্বাচনে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি মাঠে নেমেছে। ৫ জানুয়ারির (দশম সংসদ) নির্বাচন যারা বানচাল করতে সহিংসতা করেছিল তাদের অনেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ইসির নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি। আরেকজন পুলিশ সুপার বলেন, চলমান অভিযান বন্ধ করা হলে বিভিন্ন মহল মাঠে নামবে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

আরেক পুলিশ সুপার বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে, তাদের নির্বাচনের নামে ছাড় দেওয়া যাবে না। এ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলার আসামি গ্রেফতার করা হলে ইসির আপত্তি থাকবে না। এটা আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অযথা হয়রানি করা যাবে না।

বৈঠকে আরেক পুলিশ সুপার বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া লাগবে না। ভোটের দিন যেন এসব বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন না করে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিইসির ১২ দফা নির্দেশনা

বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের ১২ দফা নির্দেশনা দেন  সিইসি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—নির্বাচনি কর্মকর্তাদের তালিকা ধরে তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করতে হবে। এতে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের মধ্যে নাশকতাকারী সৃষ্টিকারী রয়েছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। বিনা কারণে কোনও ব্যক্তির নামে হয়রানিমূলক মামলা করা বা গ্রেফতার করা যাবে না। প্রত্যেক এলাকার দলমত নির্বিশেষে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের তালিকা তৈরি করে নজরদারি করতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনী কোথায় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তা নিয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করতে হবে। হাওর-বাওর, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার ভোটকেন্দ্রের মালামাল পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ