প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে চলছে অপপ্রচার

বাংলাদেশ জার্নাল : আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে অপপ্রচার। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা দান এমনকি কোনো কোনো প্রার্থী মনোনয়নের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পরও চলছে এই অপপ্রচার। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরণের অপপ্রচার আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারও মনোনয়ন নিশ্চিত হলে একই দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশি কিংবা জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনেও ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়টি নিয়ে বেশ মনোযোগীও হয়েছে। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারের সময় জামায়াতে ইসলামী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রচারণা’ চালিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো সে ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। যা এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

যদিও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। শুধু জাতীয় পর্যায় নয় স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সামাজিক গণমাধ্যমে চরিত্র হননের হীনপ্রচেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর-১ ( রামগঞ্জ) আসনে মনোনয়নে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান। তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার খবরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যখন নিজ এলাকায় আনন্দ মিছিল করছিলেন তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নামে কুৎসা রটানো হয়।

মিটু আন্দোলনের নাম দিয়ে দাবি করা হয়, ‘আনোয়ার খান কর্তৃক শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিলেন’ আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া সাবিহা নাজনীন নামের এক ছাত্রী। একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল ওই ‘খবরটি’। যাতে শেষে লেখা ছিল লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত। যদিও ওই খবরের ভেতরে স্ট্যাটাসের কোনো স্ক্রিনশট দেওয়া হয়নি। এমনকি ফেসবুকেও এ ধরণের কোনো স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি। সূত্রবিহীন এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ অপপ্রচার চালানোর বিষয়ে আরো উৎসাহ জোগাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে সাবিহা নাজনীন নামে কোনো ছাত্রী কখনো ভর্তি হয়নি। এমনকি মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইটেও এখন পর্যন্ত ওই কলেজে পড়া সব শিক্ষার্থীর নাম দেওয়া আছে। সেখানেও সাবিহা নাজনীন নামের কোনো শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া যায়নি। অথচ এ জঘন্য গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় পর্যায়ে এমন আর কিছু অপপ্রচারের অভিযোগও রয়েছে।

ফেসবুকে এ ধরনের গুজব রটানোর বিষয়ে বুধবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করার বিষয়ে আমাদের চিন্তা আছে। কেউ যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কোনো রকম গুজব, অপপ্রচার ও প্রোপাগাণ্ডা চালাতে না পারে সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন), মোবাইল অপারেটর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা প্রপাগাণ্ডা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে, তাদের সাথে আগামী ২৬ নভেম্বর একটি বৈঠক হবে। গুজব রোধে আমরা কী করতে চাই আর তা কীভাবে করা সম্ভব হবে এসব নিয়ে ওইদিন বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সময় নানা ধরণের গুজব ছড়ানো হয়। এটা প্রমাণিত। রাজধানীর ঝিগাতলায় ছাত্র আন্দোলনের সময় গুজব ছড়িয়ে পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে ফেলা হয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনেও ঠিক তেমনটি হতে পারে। নাও হতে পারে। তবে এত বৃহৎ একটা স্পেস মনিটরিং করা কঠিন। তবে আমরা এ ধরণের অপপ্রচার বন্ধে সচেষ্টা থাকব। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ