প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সীরাত
নবীজিকে ভালোবাসবো যেভাবে

আল আমিন : প্রিয় নবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পথ হলো- তার দেখানো রাস্তা ও রেখে যাওয়া আদর্শের অনুসরণ, অনুকরণ ও আনুগত্য। বস্তুত হজরত রসুলুল্লাহর (সা.) প্রতি ভালোবাসা কী পরিমাণ থাকা উচিত; সে কথা হজরত রসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ সত্যিকারের মুমিন হবে না, যে পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, পুত্র ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় বলে গণ্য না হব।’

আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনের সুরা আহযাবের ৫৬নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠাও।

আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর প্রতি দরুদের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ নবীর প্রতি সীমাহীন করুণার অধিকারী। তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। তাঁর কাজে বরকত দেন। তাঁর নাম বুলন্দ করেন। তাঁর প্রতি নিজের রহমতের বারি বর্ষণ করেন। ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি দরুদের অর্থ হচ্ছে, তারা তাঁকে চরমভাবে ভালোবাসেন এবং তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সর্বাধিক উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তাঁর শরিয়তকে প্রসার ও বিস্তৃতি দান করেন এবং তাঁকে একমাত্র মাহমুদ তথা সর্বোচ্চ প্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দেন।

নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এমন একটি প্রিয় নাম, যা প্রত্যেক মুসলিম তার অন্তরে গভীর ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করে থাকেন। আমলের দিক দিয়ে কারো মধ্যে যত কমতিই থাকুক, হজরত রসুলুল্লাহর (সা.) প্রতি ভালোবাসা সবার মধ্যে কমবেশি অবশ্যই আছে। আমলের দিক দিয়ে যে যত বেশি অগ্রসর এ ভালোবাসা তার অন্তরে তত গভীর। এ ভালোবাসার কোনো তুলনা নেই, পরিমাপ করে বোঝানোর উপায় নেই। মুমিনের অন্তরে যেসব কারণে আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা গভীর, সেসব কারণেই হজরত রসুলুল্লাহর (সা.) প্রতি ভালোবাসা গভীর হওয়া স্বাভাবিক। এটা ঈমানের দাবিও বটে।

পবিত্র কোরআনের সুরা আল ইমরানের ৩১ ও ৩২নং আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, হে নবী! লোকদের বলে দাও, যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়। তাদের বল, আল্লাহ ও রসুলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তারা তোমাদের এ দাওয়াত গ্রহণ না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ এমন লোকদের ভালোবাসবেন না, যারা তাঁর ও তাঁর রসুলদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ