প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেমিনারে ঐক্যফ্রন্ট
ইভিএম থেকে বিরত থাকুন, নইলে জেলে যেতে হবে

সাব্বির আহমেদ : নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে কিভাবে ভোটের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করা যায়-তারই চিত্র তুলে ধরেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা ইভিএমের নেতিবাচকতা নিয়ে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। ইভিএমের বিপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে তারা বলেছেন ইভিএমে নিদিষ্ট সময়ের পর যে প্রার্থীকেই ভোট দেয়া হোক না কেন, তা নিদিষ্ট মার্কায় যাবে। ভোট পড়বে ধানের শীষে কিন্তু যাবে নৌকায়। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করতে সরকার তা ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোটেল লেকশোরে ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভার শুরুতে ইভিএম বিশেষজ্ঞরা এর প্রযুক্তিগত দুর্বল দিক তুলে ধরে একটি গবেষণাপত্র পাঠ করেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় ইভিএম বিশেষজ্ঞ ছাড়াও কথা বলেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা। উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট নাগরিক।

ইভিএম বিশেষজ্ঞদের দাবি, যেখানে ১২০ টি দেশে ইভিএম ব্যবহার বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মাত্র ৪টি দেশে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।

এসময় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন ইভিএম সংবিধানবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী। তা বর্জন করুন। নইলে জেলে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশন জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে এটি ব্যবহার করলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের কাছে এর স্বচ্ছতা নেই। তা ব্যবহার করলে ভোট জালিয়াতি হবে। ইভিএম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমরা ছাড়বো না, জনগণ ছাড়বে না। ইভিএম ব্যবহার করলে ধানের শীষে ভোট দিলে চলে যাবে নৌকায়।

তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করবেন না। নির্বাচনের পরেও আপনারা দেশে থাকবেন।জনগণের বিপক্ষে যাবেন না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের তথ্য নেওয়া বন্ধ করুন।
আমরা নির্বাচন করব। ভোটযুদ্ধ হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, তবে ইভিএম বর্জন করুন। আওয়ামী লীগ যে ভোট চুর তা প্রমাণিত না হওয়ার জন্য
ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরাও বলছেন এইবার আর তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেখতে চান না।

তিনি বলেন, ইভিএম একটা ফালতু জিনিস। আমরা নিরাপদ ভোটকেন্দ্র চাই। এতো প্রতিবন্ধকতার পরও জনগণ মাঠে আসছে। আশা হারানোর কারণ নেই। মনপ্রাণ দিয়ে লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। সরকার কোনও ছাড় দেবে না।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের দিন থেকে সরকারের প্রথম পর্যায়ের পতন হয়েছে। এবার সরকার ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারবে বলে মনে হয় না। যারা ইভিএম নিয়ে এসেছেন তারাও এর ব্যবহার জানেন না, আর ভোটাররা ইভিএমই দেখেননি। জনগণ ইভিএম ব্যবহার করতে দেব না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে বসে আছে। কোনও কথাই তাদের কানে যাচ্ছে না। সরকার ফের ক্ষমতায় আসার জন্য সকল অপকৌশল ব্যবহার করছে। নির্বাচনে আগে অনেকেই জেলে রয়েছেন। তফসিলের পরও গ্রেফতার হচ্ছে। নির্বাচনে আমরা যাব। তাতে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে। ব্যালট যুদ্ধ হবে। জনগণ ভোটযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যে প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ তাদের উপর আস্থা রাখার প্রশ্ন উঠে না। স্বচ্ছাতার অভাব থাকলে বিশ্বাসের অভাব থাকে। কেউ ডান হাতে বা বাম হাতে ভোট দেবে- আর কেউ দুই হাতে ভোট দেবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।