প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিটু আন্দোলন কোন পুরুষের নয়, নিপীড়কের বিরুদ্ধে

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু : মহিলা পরিষদ সভাপতি আয়শা খানম বলেছেন, মিটু আন্দোলন কোন পুরুষের বিরুদ্ধে নয় নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে #মিটু আন্দোলনের সম্ভবনা ও চ্যলেঞ্জ নিয়ে আলোচনা গোল টেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, এ আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে না, এ আন্দোলন শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা নারীদের ভোগের পণ্য হিসেবে চিন্তা করে। নারীর সতীত্ব কোন কচু পাতার পানি নয় যে, টাচ করলেই পড়ে যাবে।

আমরা যখন অভিযোগ করব তখন আমাদের কথাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বলব এবং ভাষাটা এমন ভাবে ব্যবহার করব যেন দ্বিতীয়বার এটিকে মানুষের সামনে না দাঁড় করাতে হয়। এটি একটি বিশাল লড়াই।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিফা হাফিজ বলেন, যৌন হয়রানি সংজ্ঞার বলা আছে, যাকে যৌন হয়রানি করা হলো শুধুমাত্র সেই বলতে পারবে এটি যৌন হয়রানি ছিল কি ছিলনা। আপনি আমাকে দশ দিন এসে বলেছেন যে এই কাপড় পড়লে আমাকে সেক্সি লাগে কিন্তু আমার মনে হয়নি যে আপনি এটা অন্য কোন ইনটেনসনে বলেছেন, কারণ আপনি আমার ফ্রেন্ড বলতেই পারেন। কিন্তু যেদিন আপনার ইনটেনশন খারাপ থাকবে, সেদিন আমি ঠিকই ফিল করতে পারবো।

এক জন সেক্স ওয়ারকার যৌনতা বিক্রি করে তার জীবন চলে। কিন্তু সে যদি বলেন না, তবে সেটা যৌন হয়রানি হবে। কোথাও যদি একজন নারী ও পুরুষ সম্মিলিত ভাবে মিলিত হয়, সেটা নিয়ে আমাদের দেখার বিষয় না। কিন্তু দেখতে হবে, যখন সেখানের একজনও বলে যে না। তবে, সেটা হল সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, #মিটু আইন সম্মত কি না, #মিটু যাদের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে সেগুলো ঠিক হচ্ছে কি না এসব নানা ধরনের প্রশ্ন কিন্তু এখন #মিটুর বিরুদ্ধে চলছে। আরো প্রশ্ন উঠছে #মিটু নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে ফাঁসি চান নাকি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান।

আমাদের সমাজে এমন ব্যবস্থা করে রেখেছি, যেখানে নারী নির্যাতনের ঘটনায় নারীকে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়। আর এজন্য যারা একবার অপকর্ম করছে, তারা বার বার করার সুযোগ পাচ্ছে। যারা সামাজিকভাবে শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত তাদের যে একটা খারাপ দিক থাকতে পারে, তা এ আন্দোলনের মাধ্যমে জানছি।

এখন পর্যন্ত ৯ জন অভিযোগ দিয়েছে। সামনে যারা অভিযোগ আনবেন তাদেরকে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করতে হবে। কারণ ইতোমধ্যেই আন্দোলনটাকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউনের হেড অফ নিউজ হারুন অর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে যখন #মিটু আন্দোলন শুরু হয় তার আগে ভারত বড় করে তাদের
আন্দোলনের নিউজগুলো ছেপেছে। কিন্তু আমরা ছাপেনি। আমরা যারা বলেছি ৯০ ভাগ, এই ৯০ ভাগই যে প্রকাশ করতে হবে, বিষয়টা কিন্তু জরুরী না। কেউ তো প্রকাশ নাও করতে পারে। যেটি অপরাধ সেটি একটি হলো অপরাধ, ১০০ টি হলে অপরাধ।

এই আন্দোলনকে অনেক দূর নিয়ে যেতে হবে। এটা কখনোই থামতে পারে না, থামাতে হলো সভ্যতাকে বন্ধ করে দিতে হবে বলে আমি মনে করি।
এই #মিটু আন্দোলন আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো তার বাণিজ্যের জন্য জন্যই ছাপছে না। আমরা প্রথম ছাড়তে পেরেছি এজন্য বাংলা ট্রিবিউনকে অনকে ধন্যবাদ জানাই।

#মিটু সবচেয়ে বেশি ঘটেছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। আমার আমার সিনিয়র সহকর্মী আমাকে ৪/৫ টি নাম আমাকে লিখে দিয়েছ। তাদেরকে দেখি আন্দোলনে, নারী আন্দোলনে অগ্রণী সৈনিক হিসাবে। কিন্তু এইটাই তাদের কাছে অনার্য।

সম্প্রতি যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া নারীরা যাতে নিজেদের নিগ্রহের কথাগুলো অকপটে স্বীকার করতে পারেন সেজন্য #মিটু আন্দোলনের সোচ্চার হচ্ছেন নারীরা। মেয়েরা # মিটু প্লাটফর্মে দীর্ঘকাল চুপ করিয়ে রাখা অপমান, গ্লানি এবং বিচারহীনতার অসহনীয়তা প্রকাশ করছে, মুক্ত করছে। কিন্তু প্রকাশের পর যদি প্রচলিত আইন বলে, এই অপরাধ অভিযোগ দাখিলের জন্য যথেষ্ট তাহলে সেটাকে মামলা হিসেবে আমলে নিতে হবে।
বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ, ধরে মেয়েরা এইসব হয়রানী সহ্য করে আসছে মুখ বুজে। কখনো আত্মীয়,বন্ধু, কখনো সহকর্মী, শিক্ষক দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এসব হয়রানি একটা মেয়েকে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য রীতিমতো হুমকি। শৈশব-কৈশোরে তাকে এসব হয়রানির শিকার হতে হয় বেশি। এই সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি বয়সন্ধির মেয়ে বা ছেলের জন্য যা রীতিমতো বিভীষিকা। এখানে উল্লেখ করতে চাই যে শুধু নারী নয় পুরুষও যৌন হয়রানির শিকার হয়। সংখ্যা মেয়েদের চেয়ে কম হলেও নগণ্য নয়। #মিটু তাই মেয়েদের একার নয় হতে পারে পুরুষের যন্ত্রণা প্রকাশের জায়গাও।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুররাতুল তাহমিনা মিতি, শারমিন রিনভী, আঙ্গুর নাহার মন্টি, শাহনাজ মুন্নি, সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ