প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুলবাড়ীতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কয়েক’শ বিঘা জমির বোরো চাষ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তিন বছরেও গভির নলকুপে বিদুৎ সংযোগ না পাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কয়েক’শ বিঘা জমির বোরো চাষ। এতে বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার শতাধিক কৃষক।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের মইচান্দা গ্রামে। জানা গেছে উপজেলার মইচান্দা গ্রামের মৃত শফিউদ্দিন মন্ডলের ছেলে মামুনুর রশিদ মইচান্দা মৌজায় চাষাবাদের জন্য গত ২০১৫ সালের ১৫ই অক্টোবর উপজেলা সেচ কমিটি থেকে একটি গভীর নলকুপের অনুমতি(লাইসেন্স) গ্রহণ করে তার নিজস্ব জমিতে একটি গভীর নলকুপ স্থাপন করেন। যার লাইসেন্স নং-১০/২০১৪-১৫। এর পর থেকে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নিকট বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেন কিন্তু আবেদন করার তিন বছর কেটে গেলেও এখনো মেলেনি বিদ্যুৎ সংযোগ।

এদিকে গভীর নলকুপটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তেলের মেশিন দিয়ে কোন রকমে চলছে মইচান্দা গ্রামের এক’শ একরের অধিক জমির চাষাবাদ এতে বিপাকে পড়েছে ওই এলাকার সাধারণ কৃষকরা।

মইচান্দা গ্রামের কৃষকরা বলছেন এই অঞ্চলে একটি মাত্র গভির নলকুপ। এই গভির নলকুপটির সেচের উপর নির্ভশীল এই এলাকার কয়েক’শ বিঘা জমির চাষাবাদ। অথচ এই গভির নলকুপটিতে বিদুৎ সংযোগ না থাকায়, তারা সমযমত জমিতে সেচ দিতে পারছেনা। এখন আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে, অপরদিকে বোরো রোপন করার জন্য বোরো ধানের বীজতলা তৈরী করার সময় এসেছে, এখনেই যদি গভির নলকুপটিতে বিদুৎ সংযোগ না দেয়া হয় তাহলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে কয়েক’শ বিঘা জমির বোরো চাষ।

মইচান্দা গ্রামের কৃষক শফির উদ্দিনের ছেলে শাহিন মন্ডল বলেন, তেলের মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে ধান চাষ করেও তিনি লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেননা। একই গ্রামের আরিফ মন্ডল বলেন, তেলের মেশিন দিয়ে মেশিন চলিয়ে চাহিদামত পানি পাওয়া যায়না সে কারনে সময়মত বোরো রোপন করা যায়না, সময়মত বোরো রোপন করতে না পারায় ফসলের ফলন কমে যায়। এদিকে মইচান্দা গ্রামের সামাদ মন্ডল বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় চাহিদামত পানি সরবরাহ করতে পারছেনা গভীর নলকুপটি এতে অধিকাংশ জমির বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

মামুনুর রশিদ বলেন, গভীর নলকুপটি স্থাপন করার পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বারবার দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নিকট ঘুরতে ঘুরতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, বর্তমানে তার গভির নলকুপটির ঘরের পাশে বিদুৎ লাইন রয়েছে তবুও তার গভির নলকুপটিতে সংযোগ দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন গভির নলকুপটির মালিক মামুনুর রশিদ। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক(জিএম) সুশান্ত কুমার।

তিনি বলেন, মইচান্দা গ্রামের সন্নিকটে দাসিয়াড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে নুরুজ্জামান(সেনা সদস্য)বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অভিযোগ করায়,মামুনুর রশিদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে।

উপজেলা সেচ কমিটির কার্য্যলয় সুত্রে জানাগেছে গত ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই উপজেলার মোট ৫ হাজার ৭৭১টি সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে এর মধ্যে গভির নলকুপ ২২৯টি ও অগভির নরকুপ ৫ হাজার ৪৪২টি। এর মধ্যে প্রায় ২৫০০টি সেচপাম্পে বিদুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি, এই মেশিন গুলো তেল দিয়ে চলছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ