Skip to main content

ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের অভ্যাস হলো ক্ষমতার অপব্যবহার করা

মোহাম্মদ শফিক, ফেসবুক থেকে: সিনহা বাবুর Broken Dream পড়ে আমাদের প্রথম বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের লেখা বই ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’ এর কথা মনে পড়ে গেল। বাংলাদেশের প্রথম বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে জ্বনাব সায়েমকে নিয়োগ দেয়া হয় ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ খালেদ মোশাররফ কর্তৃক । জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বরের ক্যু দেতার মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে বহাল রাখেন বিচারপতি সায়েমকে। বঙ্গভবনের দিনগুলো নিয়ে বিচারপতি সায়েম একটি বই লিখেছিলেন যে বইটির শিরোনামে ছিল, ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’। ১৯৮৮ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। ২৭৩ পৃষ্ঠার ঐ বইয়ের পাতায় পাতায় আছে তৎকালীন সেনা প্রধানের স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র। বইটির ২৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৪ টি মূল স্তম্ভ বাতিল সংক্রান্ত একটি সামরিক ফরমান আমার কাছে স্বাক্ষরের জন্য আসে।… আমি ঐ ফরমানে স্বাক্ষর না করে, তা রেখে দেই। … পরদিন রাত ১১ টায় বুটের শব্দে আমার ঘুম ভাঙ্গে। সেনাপ্রধান জিয়া অস্ত্রশস্ত্রসহ বঙ্গভবনে আমার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে। … জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় তাঁর বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন, সাইন ইট। তাঁর একহাতে ছিল স্টিক, অন্য হাতে রিভলভার’… বইটির শেষ অধ্যায় নাটকীয়। … ‘জেনারেল জিয়া বঙ্গভবনে আসতেন মধ্যরাতে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা অস্ত্র উঁচিয়ে রাখতো… আমি প্রায়ই মনে করতাম এটাই বোধহয় আমার শেষ রাত। … এক রাতে তিনি এসে একটি কাগজ আমার বিছানায় ছুড়ে দিয়ে বললেন, সাইন ইট… আমি কাগজটা পড়লাম। আমার পদত্যাগ পত্র। যাতে লেখা আছে, ‘অসুস্থতার কারণে আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’ আমি জিয়াউর রহমানের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আট দশজন অস্ত্রধারী আমার বিছানার চারপাশে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিয়া আবার আমার বিছানায় পা তুলে আমার বুকের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে বললেন, ‘সাইন ইট’। আমি কোনোমতে সই করে বাঁচলাম…।’ আমাদের সর্বশেষ বিচারপতি সিনহা বাবুর ক্ষেত্রেও ঘটছে প্রায় একই রকম ঘটনা। তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় একই কৌশলে পদত্যাগে এক প্রকার বাধ্য করা হয়েছে সেটা না বুঝার কোন কারণ নাই। তবে সিনহা বাবুকে এতো কৌশল করে না সরালেও হতো। তিনি তো ২-৩ মাস পর এমনিতেই অবসরে যেতেন। কিন্তু আমাদের ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের অভ্যাস হলো ক্ষমতার অপব্যবহার করা। একটি জাতি কতটা উন্নত সেটা বুঝার উপায় হলো সেদেশের বিচার ব্যবস্তা কতটা উন্নত। প্রধান বিচারকদের যদি হয় এই অবস্থা তাহলে সেদেশের বিচার ব্যবস্থা কতটা উন্নত বলাই বাহুল্য !!!!

অন্যান্য সংবাদ