প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোট দিতে না পারলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে : সুব্রত চৌধুরী

মো: মারুফুল আলম: গণফোরামের নির্বাহী সদস্য এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, এবারের নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। কেউ যদি মনে করে যে, কলাকৌশল করে যেনোতেনোভাবে আমরা ক্ষমতায় থাকবো, সেটা হবে মহা বিপদ। তাদেরকেই স্থির করতে হবে তারা সেই লাইনে যাবে কি না। মঙ্গলবার এসএ টিভির টকশো’তে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৮ এর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী থেকে অনির্বাচিত কিছু লোকজন দিয়ে আরও পাঁচ বছর চালিয়ে নিলো। এখন অনির্বাচিত সংসদের লাইসেন্স পেয়ে গেছে ভেবে আরো পাঁচ দশ বছর থাকার স্পৃহা করলে এটা গণতন্ত্র হবে না। নতুন ধরণের যে গণতন্ত্র চালু করেছেন, মানুষ ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেছে। একটা জায়গায় এসে এসব থামাতে হয়। সরকারি দলকে ভাবতে হবে, যে পথে তারা অগ্রসর হচ্ছে এটা অত্যন্ত বিপদসংকুল পথ। তবে প্রধানমন্ত্রীর ‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব, আমি এটা করে দেখাবো‘ আর ‘জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই’ বক্তব্যগুলো অনেক ভালো কথা হিসেবে মন্তব্য করেছেন সুব্রত।
সুব্রত বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং কার্যকর গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা সুন্দর একটি পার্লামেন্ট দেখতে চাই। এখন তো পার্লামেন্টের মেম্বার হওয়া মানে একটি ব্যবসায়িক ক্লাবের মেম্বার হওয়া। প্রথমত একটি নমিনেশন বাণিজ্য হয়। আর এসব দলকে বাইরে থেকে যারা নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে, সমস্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ তারাই কুক্ষিগত করে।

সুব্রত আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন দুশ্চিন্তা নেই। কে কত আসন পেল বা বিএনপি কয়টি রেখে দিলো এসব নিয়ে আমরা মোটেও ভাবছি না। এখন পর্যন্ত আমরা সবাই সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে বড় দল বিএনপিও বলেছে, ‘যেখানে আপনাদের যোগ্য প্রার্থী আছে, সেখানে আমরা ছাড় দেবো।’ তারা ১০০ আসন ছাড়তেও রাজী আছে। ওরা এত দিতে চাচ্ছে যে, আমরা ততটুকু নিতেও পারবো না।

জামায়াত প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, জামায়াত এর অনেক লোক আওয়ামী লীগেও আছে। সুতরাং জামায়াত প্রসঙ্গে তির্যক বক্তব্য আমাদেরকে দিয়ে লাভ নেই। নৌকা নিয়ে ইলেকশন করেছে এমন লোকও আছে। যেমন সাতকানিয়াতে গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে নদভী নামের একজন এমপি হয়েছে। নদভী’র স্ত্রী জামায়াতের বড় নেত্রী ছিলো, এখন আওয়ামী লীগের নেত্রী হয়ে গেছে। পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট করা হয়েছে, ধর্মভিত্তিক দলগুলো আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করেছে। কুষ্ঠিয়াতে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ফুলের তোড়া নিয়ে জামায়াতের দিকে তাকিয়ে বলছে আসো আসো। জামায়াতও আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে থাকছে গ্রেফতার এড়ানোর জন্য। প্রতিদিন এমন গ্রেফতার হচ্ছে যে, তাদেরকে এখন বাইরেও দেখা যায় না। সরকারের কৌশল বা অপকৌশল যাই বলেন, তাদেরকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপি’র অবস্থান, ‘তারা আমাদের সাথে ছিলো, যতটুকু থাকে থাকুক’। তবে, যতটুকু জানি, জামায়াতের আলাদা একটি অবস্থান আছে, হয়তো তারা ইনডিপেন্ডেন্ট ইলেকশন করবে। তবে, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ