প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এরশাদ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না তার আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে’

রবিন আকরাম : ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিশ্চয়ই বুকে হাত দিয়ে এ কথা বলতে পারবেন না যে, তার আমলে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে এসব কথা লিখেছেন লেখক ও সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।

রশীদ এর ভাষায়, জিয়াউর রহমানের হত্যা হওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতা চলে যায় আরেক সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের হাতে। তার অধীনে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসনে জয় পায়। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। এবারও জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসয়ে জয়ী হয়। জনাব এরশাদ এখনও বেঁচে আছেন। তিনি নিশ্চয়ই বুকে হাত দিয়ে এ কথা বলতে পারবেন না যে, তার আমলে অনুষ্ঠিত ওই দুটি নির্বাচন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তিনি এই দাবি করতে পারবেন না যে, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন দুটিতে জনমত ও জনরায়ের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটেছে। বস্তুত প্রথম থেকে এই চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ক্ষমতাসীনদের অধীনে, এবং সঙ্গত কারণেই সেই নির্বাচনগুলোয় তাদের প্রভাব ছিল।

এবারের নির্বাচনে ২০১১ সালের সংবিধান সংশোধনের কথা উল্লেখ করে আমীন আল রশীদ লিখেছেন, ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করার ফলে ২০১৪ সালের নির্বাচনটি হয় দলীয় সরকারের অধীনে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামী লীগ ‘ওয়াকওভার’ পায়। ফলে এবারও দলীয় সরকারের অধীনে যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে, সেখানে নির্বাচন কমিশন কতটা প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, ক্ষমতাসীনদের প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কতটা নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে নানা মহলেই সংশয় রয়েছে।

‘সিইসি ও তার দুই সহকর্মী যদি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারেন তাহলে শুধু একাদশ জাতীয় নির্বাচনই নয়, বরং জনাব হুদার এই কমিশনের নামও ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ